
গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিমের স্ত্রী উম্মে সালমাকে নিয়োগ দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে প্রথম শ্রেণির পদে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্যতা থাকলেও তাঁকে তৃতীয় শ্রেণির একটি পদে মাস্টাররোলে (দৈনিক মজুরিভিত্তিক) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ১ অক্টোবর একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ (প্রথম শ্রেণি) বিভিন্ন শ্রেণিতে আরও বেশ কয়েকটি পদের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদের জন্য শিক্ষাজীবনের সব পর্যায়ে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণি ও স্নাতকসহ (সম্মান) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি যোগ্যতা হিসেবে চাওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত পূরণ করায় উম্মে সালমা ওই পদে আবেদন করেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ওই পদের জন্য সাক্ষাৎকার দেন। কিন্তু ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ওই পদে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রাজিব চক্রবর্তীর নিয়োগ অস্থায়ী থেকে স্থায়ী করা হয়। ২০১৫ সালে তিনি অস্থায়ী ভিত্তিতে রেজিস্ট্রার অফিসের শিক্ষা শাখায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পান।
উম্মে সালমাকে নিয়োগের ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি প্রশাসনিক আদেশ পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, উম্মে সালমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে উচ্চমান সহকারী পদে (তৃতীয় শ্রেণি) দৈনিক মজুরিভিত্তিক ৯০ দিনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হলো। এতে আরও বলা হয়, এর জন্য তিনি দৈনিক ৫২৫ টাকা করে মজুরি পাবেন এবং চাকরিতে যোগদানের তারিখ থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা চলছে। রবিউলের পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও এই বিশ্ববিদ্যায়ের সাবেক শিক্ষার্থী নূর সিদ্দিকী তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘সালমার শিক্ষাজীবনে তিনটি প্রথম শ্রেণি, একটি দ্বিতীয় শ্রেণি। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন ভূগোলে। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে আবেদন করে মৌখিক পরীক্ষা দেন। কিন্তু নিয়োগপত্র আসে তৃতীয় শ্রেণির পদের। গুলশানের হোলি আর্টিজানে হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল নিহত হন। তাঁকে মরণোত্তর বিপিএম (পুলিশ) পদকও দেওয়া হয়েছে। দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া রবিউলের স্ত্রী কি করুণার চাকরিটি নিতে পারেন? রবিউলের মর্যাদা নিশ্চয়ই তিনি রক্ষা করবেন।’
হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার এক বছরের দিনে চলতি ১ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই হামলায় নিহত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রবিউল করিমের স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এর প্রতিক্রিয়ায় রবিউলের ছোট ভাই শামসুজ্জামান বলেছিলেন, ‘ভাই দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। ভাবিকে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর প্রতি যে সম্মান দেখিয়েছে, দেশের মানুষ তা মনে রাখবে। এর মধ্য দিয়ে ভাবির স্বাবলম্বী হওয়ার পথ মসৃণ হবে। কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে ভাবি মানসিক যন্ত্রণাও কাটিয়ে উঠতে পারবেন।’ তবে প্রথম শ্রেণির বদলে তৃতীয় শ্রেণির চাকরি মেলার ব্যাপারে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। কিন্তু সালমা দীর্ঘদিন আগে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতাও নেই। তাই এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে যদি কোনো ভিন্ন মত আসে, আমরা বিবেচনা করব।’ দৈনিক মজুরিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা হয়তো অনেকেই জানেন না। বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগ হলে সেটা এভাবেই হয়।’