রাখাইনের দুটি গ্রামে আগুন, ফের রোহিঙ্গা ঢলের আশঙ্কা

রাখাইন রাজ্যের সীমান্তবর্তী দুটি গ্রামে সোম ও মঙ্গলবার আগুনের কুণ্ডলী ও ধোঁয়া দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত
রাখাইন রাজ্যের সীমান্তবর্তী দুটি গ্রামে সোম ও মঙ্গলবার আগুনের কুণ্ডলী ও ধোঁয়া দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যের সীমান্তবর্তী দুটি গ্রামে গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার আগুনের কুণ্ডলী ও ধোঁয়া দেখা গেছে। এতে করে বাংলাদেশে আবারও রোহিঙ্গার ঢল নামার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী ও হ্নীলা ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, রাখাইনের মংডু শহরের কাছে কুমারখালী ও নাকপুরা গ্রামে সোমবার বিকেলে হঠাৎ আগুনের কুণ্ডলী ও ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। গতকাল বেলা ১১টা পর্যন্ত একই অবস্থা অব্যাহত ছিল। সীমান্তের এপারে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকেও তা দেখা যায়। তাঁরা মনে করছেন, এ ঘটনার পর আবারও বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়ে যেতে পারে।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি অবস্থানে একযোগে সন্ত্রাসী হামলা হয়। এ হামলায় রোহিঙ্গারা জড়িত অভিযোগ তুলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান শুরু করে। এরপর বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। তবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সম্প্রতি মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এরপরও রোহিঙ্গা আসা বন্ধ না হলেও সংখ্যা কমে এসেছিল।

টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বলেন, রাখাইনের কুমারখালী ও নাকপুরা গ্রামে সোমবার বিকেলে হঠাৎ করে একদল সেনা ও রাখাইন মিলে হামলা চালায়। ওই এলাকায় থাকা কয়েকজনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিকী।

ইউএনও জাহিদ হোসেন বলেন, মিয়ানমারে অনেক দিন ধরে আগুনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু হঠাৎ দুটি গ্রামে আগুন দেওয়ার খবর তিনি স্থানীয় ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছ থেকে শুনেছেন। বিজিবির কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, সোমবার ও মঙ্গলবার কুমারখালী ও নাকপুরা গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।

এসেছে আরও ৪৭ রোহিঙ্গা

নাফ নদী অতিক্রম করে আরও ১৯ পরিবারের ৪৭ জন রোহিঙ্গা সোমবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত টেকনাফে এসেছে। এই ৪৭ জনকে প্রথমে সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালীতে সেনাবাহিনীর ত্রাণকেন্দ্রে নেওয়া হয়। এরপর মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ দিয়ে গাড়িতে করে টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠানো হয়। হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন এ কথা জানান।