রাজশাহীতে দুর্ঘটনায় আহত বাবা চলে গেলেন, মেয়ে সংকটাপন্ন

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বিয়েবাড়ি যাওয়ার পথে প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় আজ রোববার আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন শুধু বেঁচে আছে আট বছর বয়সী এক শিশু। তবে তার অবস্থাও সংকটাপন্ন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে রমজান আলী (৪২) নামের আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বাড়ি গোদাগাড়ীর কেল্লাবারুইপাড়া মহল্লায়। তিনি সপরিবারে ঢাকা থেকে গোদাগাড়ীতে বিয়ের অনুষ্ঠানের যোগ দিতে এসেছিলেন। তিনি বরের ভগ্নিপতি।

হাসপাতালের ওয়ার্ডমাস্টার মোশাররফ হোসেন আজ রমজান আলীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল ছয়টার দিকে রমজান আলী মারা যান।

এ দুর্ঘটনায় এখন শুধু রমজান আলীর মেয়ে রাফিয়া (৮) বেঁচে আছে। তবে তার অবস্থায়ও সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। রামেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) তার চিকিৎসা চলছে।

স্বজনেরা জানিয়েছেন, রমজান আলী পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। তাঁর শ্বশুরবাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর চর চাকলাম গ্রামে। গতকাল শনিবার তাঁর শ্যালক সেলিম রেজার বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। গতকাল সেলিম গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ি মহল্লায় বিয়ে করতে আসেন। আর এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে রাজশাহী আসেন রমজান আলী। রাতে শহরে ভায়রাভাই মোসাব্বির হোসেন আকাশের বাসায় থাকেন। পরদিন দুপুরে রমজান ও আকাশ তাঁদের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া নিয়ে মহিষালবাড়ি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন।

পথে সাহাব্দিপুর এলাকায় রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে নয়জন যাত্রী নিয়ে প্রাইভেট কারটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর উল্টে গিয়ে সেটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজন ছয়জনকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা যান। আজ রমজানও মারা গেলেন।

নিহত অন্যরা হলেন রমজানের স্ত্রী আসিয়া বেগম (৩৫), ভায়রাভাই মোসাব্বির হোসেন আকাশ (৪০), আকাশের স্ত্রী হোসনে আরা (৩৪), তাঁর মেয়ে মুসফিরা খাতুন (৭), ছেলে আদিব আল হাসান (১), প্রাইভেটকারের চালক আশেক মাহবুব রাজীব (৩৫) এবং রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রী আতিয়া খাতুন পূর্ণিমা (২৩)। পূর্ণিমার সঙ্গে নিহত অন্যদের সম্পর্ক কী, তা এখনো জানা যায়নি।