রামপুরা থেকে বাড্ডা নতুন বাজার সড়কে তীব্র যানজট

রামপুরা সেতু থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত প্রগতি সরণির অন্তত চারটি জায়গায় প্রতিদিন যানজট হচ্ছে। যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা-নামানো, অবৈধ পার্কিং, ভাঙাচোরা সড়ক, সড়ক বন্ধ করে নির্মাণকাজ, সড়কে ময়লার খোলা কনটেইনার এবং বিশালাকার বাসের ইউ টার্নের কারণে মূলত এই যানজট।

গত বুধবার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রগতি সরণির রামপুরা সেতুর হাতিরঝিল প্রকল্পের সংযোগ সড়ক প্রান্ত, বাড্ডা-গুলশান সংযোগ সড়কের বাড্ডা প্রান্ত, মেরুল বাড্ডায় হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের বাড্ডা প্রান্তের ইউ আকৃতির গাড়ি পারাপার সেতুর নির্মাণস্থল এবং নতুন বাজার এই চারটি স্থানে যানজট হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

হাতিরঝিল প্রকল্পের সংযোগ সড়ক থেকে বাড়তি যানবাহন যোগ হওয়ায় রামপুরা-বাড্ডা সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাচ্ছে। হাতিরঝিল হয়ে আসা যানবাহনগুলোকে মালিবাগের দিকে যাওয়ার সুযোগ দিতে দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্যরা মালিবাগ হয়ে আসা যানবাহন থামিয়ে রাখছেন।

হাতিরঝিলের মোড় থেকে রামপুরা সেতু হয়ে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডের দিকে এগোলে মেরুল বাড্ডা। সেখানেই হচ্ছে হাতিরঝিলের বাড্ডা প্রান্তের ইউলুপ। নির্মাণকাজের জন্য রাস্তার মাঝখানের বড় অংশ আলাদা করা হয়েছে। এতে দুই লেনের গাড়িগুলোকে সরু পথে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রগতি সরণির ব্যস্ত এই অংশে যানবাহনের চাপ থাকায় যানজট তৈরি হচ্ছে।

প্রগতি সরণির মূল সড়কের সঙ্গে আশপাশের যে সংযোগ সড়কগুলো রয়েছে, তার প্রায় প্রতিটির মুখে একটি করে রিকশা স্ট্যান্ড রয়েছে। এসব স্ট্যান্ডের রিকশাগুলো মূল রাস্তার বেশ খানিকটা অংশজুড়ে একটি জটলা তৈরি করেছে। এতে চলাচলকারী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও হিউম্যান হলারগুলোর এই জায়গাগুলো পার হতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

সড়কে রিকশা স্ট্যান্ড, রাস্তার মাঝখানে দাঁড় করিয়ে যানবাহনে যাত্রী তোলা-নামানো প্রতিদিনের যানজটের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যানজটে আটকে থাকা অবস্থায় এই পথে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে সড়কের যেখানে-সেখানে আবর্জনার স্তূপ। এর পাশাপাশি রাস্তার ওপর সিটি করপোরেশনের খোলা ভাগাড় থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ জনদুর্ভোগ আরও বাড়াচ্ছে।

এ পথের নিয়মিত যাত্রী আসাদুল বলেন, সড়কের পাশের বেশির ভাগ স্থাপনার নিজস্ব কোনো গাড়ি রাখার জায়গা নেই। বহুতল ভবনের গাড়িও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। প্রতিদিন এই পথটুকু পার হতেই ৪০-৪৫ মিনিট লেগে যায়। প্রগতি সরণি ভাঙাচোরা হওয়ায় যানজট বেড়েছে।

নতুন বাজার এলাকায় রাস্তা দখল করে বাস-মিনিবাস রাখা এবং ঘোরানোর কারণে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ জট। গুলশান-২ নম্বর থেকে আসা গাড়ির সারি নতুন বাজারে যোগ হওয়ায় এখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানজট লেগে থাকছে।

দেখা যায়, আজিমপুর, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, সাভার ও মিরপুর থেকে আসা উইনার, ভূঁইয়া, বৈশাখী, বিহঙ্গ, আকিক, জাবালে নূর পরিবহনের শতাধিক বাস যাত্রা শেষ ও শুরু করে নতুন বাজার এলাকা থেকে। যাত্রা শেষে এসব বাস ঘোরানোর কারণে নতুন বাজার এলাকায় সারাক্ষণ যানজট লেগে থাকছে।

অনেক জায়গায় রাস্তার ওপরেই গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান। কোথাও সড়কের ওপর স্তূপ করে রাখা হয়েছে ভবন নির্মাণের ইট-বালু। কর্মদিবসগুলোতে হকার এবং রাস্তা-সংলগ্ন দোকানগুলোর গাড়ি দিয়ে বেদখল হওয়া ফুটপাতের কারণে পথচারীরা মূল সড়ক ধরে হাঁটতে বাধ্য হয় বলে জানালেন এলাকার কয়েকজন।

প্রগতি সরণির সড়কের যানজট কমাতে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে রিকশার আলাদা লেন করা হয়েছিল। তবে তা বেশি দিন টেকেনি। সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলায় এখন তা বন্ধ। মূল সড়কে অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই ছুটছে রিকশা। ফলে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাস্তায় যানজট লেগে থাকছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ট্রাফিক-উত্তর) সহকারী কমিশনার ফেরদৌসী রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সড়কের বিভিন্ন জায়গায় সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজ চলছে, বড় পাইপ রাখায় সড়কের প্রস্থ কমে গেছে। রিকশা লেনটিও চালু রাখা যায়নি। ফলে কয়েকটি জায়গায় যানবাহনের চাপ বেড়ে যাচ্ছে।