রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া দণ্ড মওকুফের ক্ষমতাসংক্রান্ত সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের তিন আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ গতকাল রোববার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।
রিটে সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের ২৬, ২৭, ৩১, ৩৫, ১১১ ও ১১২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে তা কেন সংবিধান পরিপন্থী বলে বাতিল করা হবে না—এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে।
সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার বিষয়ে বলা আছে। এই অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কতৃর্পক্ষ প্রদত্ত যেকোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলিম্বত করা ও বিরাম মঞ্জুর করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে। অন্যদিকে সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার বর্ণনা করা হয়েছে। ২৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে এই ভাগের বিধানগুলোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সব আইন, যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি বাতিল হয়ে যাবে। ২৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিক সমান ও আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিব ও সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, ৪৯ অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। বিচার পাওয়ার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। রাষ্ট্রপতি যদি দণ্ডপ্রাপ্ত কাউকে ক্ষমা করে দেন, সে ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থী মানুষ তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। কাল (আজ) সোমবার আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।