
করোনা মহামারির এই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রিয়াজ (গুরুত্ব বিবেচনায় রোগী বাছাই) জরুরি। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ট্রিয়াজ পদ্ধতি খুবই কার্যকর হবে। সাধারণত জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রিয়াজ প্রয়োগ করা হয়। যদিও এটা আবিষ্কৃত হয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় সৈনিকদের মধ্যে যাঁরা আহত হতেন, তাঁদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া হতো। তখন আহত সৈনিকদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছিল। এর মধ্যে একদল ছিল যাঁদের চিকিৎসা দিলেও বাঁচার সম্ভাবনা খুব কম। আরেকটি দল ছিল চিকিৎসা দিলে বাঁচবেন, না দিলে বাঁচবেন না। তৃতীয় দলে তাঁরাই ছিলেন যাঁরা চিকিৎসা না পেলেও বাঁচবেন। আহত সৈনিকদের এই তিন ভাগের মধ্যে দ্রুত চিকিৎসা না দিলে যাঁরা মারা যাবেন, তাঁদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া শুরু হলো তখন। এই বিষয়টা এখন দুনিয়াজুড়ে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
এখন দেখা যাচ্ছে ট্রিয়াজ সাধারণ সময়েও দরকার। সব উন্নত দেশে জরুরি অবস্থায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই পদ্ধতি চালু আছে। আমাদের দেশে এটি ছিল না। করোনা মহামারির এই সময়ে দেখা যাচ্ছে, সেবা নিতে গিয়ে আক্রান্ত এবং আক্রান্ত নয়, সব রোগী এক হয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরাও আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছেন। তাই রোগীদের আলাদা করার বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্যই ট্রিয়াজ প্রয়োজন।
যখন হাসপাতালে একজন রোগী সর্দি, কাশি বা জ্বর নিয়ে আসেন, তখন সমস্যার কথা শুনে তাঁদের পৃথক করার ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু মুখে মুখে এ কাজ হবে না। এ জন্য ট্রিয়াজ জরুরি। স্বাস্থ্য খাতে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ট্রিয়াজ প্রয়োজন।
আমরা এমন এক সময় পার করছি যে একজন মানুষের (আক্রান্ত) পাশে আরেকজন পাঁচ মিনিট থাকলেই তিনিও আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন। আমরা যদি আক্রান্ত রোগীকে আলাদা করতে না পারি, তাহলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। সংক্রমিত রোগীরা হাসপাতালে আসবেন, সেখানেই তাঁদের আলাদা করে চিকিৎসা দিতে না পারলে সব সাধারণ রোগী এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।
সরকার ট্রিয়াজ নিয়ে গাইডলাইন (নীতিমালা) করেছে। এটা সব হাসপাতালে পৌঁছানো হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এ নিয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না। মাঠে ট্রিয়াজ নেই। আমাদের দেশে এমন শত শত গাইডলাইন আছে। কিন্তু কোনোটার প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে সেভাবে দেখা যায় না। স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নতি করতে হবে। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং কাজে অবহেলার জন্য শাস্তি চালু করতে হবে। ঠিকভাবে কাজ হচ্ছে কি না, এর তদারক করতে হবে। তা না হলে ট্রিয়াজসহ কোনো পদ্ধতিই কার্যকর উন্নত হবে না।
* মো. রিদওয়ানুর রহমান, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের রিসার্চ সেন্টারের প্রধান