
টিনের দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল ইসলামবাগ শরীরচর্চাকেন্দ্রের সাইনবোর্ড। মেঝেতে অযত্নে পড়ে আছে সেটি। ঘরের ভেতরে শরীরচর্চার সরঞ্জামগুলো ছড়ানো-ছিটানো। সেগুলোর কোনোটিই পূর্ণাঙ্গ নয়। এক অংশ আছে, তো অন্য অংশ নেই। সব সরঞ্জামেই মরিচা পড়েছে, জমেছে ধুলার আস্তর। ব্যবহারের উপযোগী নেই একটিও। কয়েকটি বেঞ্চের ফোম ছেঁড়া, কাঠামো ভাঙা। মেঝের এখানে-সেখানে গর্ত।
গতকাল মঙ্গলবার পুরান ঢাকার ইসলামবাগ শরীরচর্চাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় এই চিত্র। কেন্দ্রটি একসময় ছিল ইসলামবাগ কমিউনিটি সেন্টারে। কমিউনিটি সেন্টারের জায়গায় বহুতল ভবন তৈরি করবে সিটি করপোরেশন। তাই পাঁচ বছর আগে শরীরচর্চাকেন্দ্রটি সেখান থেকে সিটি করপোরেশনের স্টাফ কোয়ার্টার-১–এর খালি জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
শরীরচর্চাকেন্দ্রের টিনশেড ঘরটি খোলামেলা ও বেশ বড়। তবে এর অবস্থা নাজুক। শরীরচর্চাকেন্দ্র সূত্র জানায়, মাস ছয়েক আগে ঝড়ে ঘরের টিনের চালা ভেঙে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরের দেয়াল ও সরঞ্জাম। এরপর থেকে তেমন কেউ শরীরচর্চা করতে আসেন না।
স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম এই কেন্দ্রে ছয় মাস শরীরচর্চা করেছেন। তবে এখন ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো মাস্টার নেই। সরঞ্জাম নেই। যেগুলো আছে, সেগুলোও খুব পুরোনো। তাই ছেড়ে দিয়েছি।’
ইসলামবাগ শরীরচর্চাকেন্দ্রের পুরোনো সদস্য ব্যবসায়ী সুজন ইসলাম বলেন, ‘শরীরচর্চাকেন্দ্রটির অবস্থা শোচনীয়। আগে আমরা এর দেখাশোনা করতাম, জুনিয়রদের শেখাতাম। ছয় মাস ধরে এখানে শরীরচর্চা করা যায় না। এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহীকে আমরা চিঠি দিয়েছি। করপোরেশন থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়, কিন্তু কোনো কাজ হয় না।’
বিকেলে শরীরচর্চাকেন্দ্রটি খোলার দায়িত্বে আছেন নিরাপত্তারক্ষী মো. মোতালেব। তিনি বলেন, ঝড়ে ঘরটির টিনের চালা ভেঙে পড়ে। এখন ঘরটির সংস্কার কাজ চলছে। তিন মাস আগে টিন লাগানো হয়েছে। এখনো অনেক কাজ বাকি। মেঝে পাকা করতে হবে।
মো. মোতালেব বলেন, মাঝেমধ্যে দু-একজন সদস্য ব্যায়াম করতে আসেন এখানে।
মোতালেব বলেন, ছাদ ভেঙে যাওয়ার পর ছয় মাসে এই কেন্দ্রে বৈদ্যুতিক বাতি ছিল না। তিনটি টিউবলাইট বাতি লাগানো হয়েছে দুদিন আগে। ফ্যান লাগাতে হবে। পুরোনো সরঞ্জামগুলো রং করতে হবে।
শরীরচর্চাকেন্দ্রের সকালের নিরাপত্তারক্ষী বাদল মল্লিক। তিনি নয় বছর ধরে এই দায়িত্বে আছেন। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রটি একসময় সকাল ও বিকেলে নিয়মিত খোলা হতো। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় অনেকেই ব্যায়াম করতে আসতেন। এখনো খোলা হয়। এখানে ব্যায়ামের পরিবেশ নেই, তাই কেউ ব্যায়াম করতে আসেন না।
বাদল মল্লিক জানান, কেন্দ্রের কিছু সরঞ্জাম আঞ্চলিক অফিসে রাখা আছে। এই জায়গায় অস্থায়ীভাবে কেন্দ্রের কার্যক্রম চলছে, তাই সিটি করপোরেশন থেকে নতুন সরঞ্জামও দেওয়া হচ্ছে না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-৩–এর নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আনসারুজ্জামান বলেন, শরীরচর্চার অস্থায়ী জায়গাটি সংস্কারের জন্য সদস্যদের দেওয়া চিঠির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে কাগজপত্র দেখলে বলতে পারবেন। তিনি এ বিষয়ে আঞ্চলিক সমাজকল্যাণ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
ডিএসসিসির ৩ নম্বর অঞ্চলের সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মো.¯রোকনুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।