‘মানুষ শামুককে প্রকৃতির বন্ধু হিসেবে কতটা চেনে এবং শামুক কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘মিট দ্য প্রেস অ্যান্ড ডায়ালগ’ অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি সংস্থা বারসিকের ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লাইড স্টাডিজের পরিচালনায় শেখ তানজির আহমেদ ও আসাদুল ইসলাম ওই গবেষণা করেন। গবেষণাপত্রে বলা হয়, প্রকৃতির ‘ফিল্টার’ শামুক কমে গেলে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হয়। এতে শামুক কমে যাওয়ার পেছনে প্রজনন মৌসুমে শামুক ধরা ও বিক্রি, মাছের খাদ্য হিসেবে ও চুন তৈরিতে ব্যবহার, ডিমওয়ালা শামুক নিধন, শামুকের আশ্রয়স্থল কমে যাওয়া, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধিসহ নানা কারণকে দায়ী করা হয়। শামুক রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করেন গবেষকদ্বয়।
গবেষণাপত্র উপস্থাপনার পর সংলাপ হয়। সেখানে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান, অসীম বরণ চক্রবর্তী, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম প্রমুখ।
গবেষণাপত্রে বলা হয়, প্রকৃতির অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বন্ধু হলেও সাতক্ষীরার আট ভাগ মানুষ মনে করে, শামুক কমে গেলে কোনো ক্ষতি হয় না। তিন ভাগ মানুষ এর ক্ষতি সম্পর্কে জানে না। বাকি ৮৯ ভাগ মানুষের মতে, শামুক কমে যাওয়ার কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নানা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এ ক্ষেত্রে তাঁরা মাছ ও হাঁসের খাদ্য কমে যাওয়া, পানি নষ্ট হয়ে যাওয়া, মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হওয়া, পানিতে রোগ-জীবাণু বৃদ্ধি, ইঁদুরের উৎপাত বেড়ে যাওয়া, দেশীয় মাছ কমে যাওয়াসহ সর্বোপরি পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
গবেষণাপত্রে শামুক রক্ষায় প্রত্যেক ঘের মালিককে নিজ ঘেরের চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় শামুক চাষে উৎসাহিত করা, কীটনাশকের ব্যবহার কমানো, প্রজনন মৌসুমে (জুন-আগস্ট) শামুক ধরা নিষিদ্ধকরণ, সরকারের কৃষি বা মৎস্য বিভাগের সাইন বোর্ডগুলোতে শামুকের উপকারিতা তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান লিপিবদ্ধ করাসহ সর্বোপরি জনসচেতনতা সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়।