শাড়িতে নকশা তুলে বাড়তি আয়

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার কয়েক হাজার নারী শাড়িতে নকশা তোলার কাজ করেন। সংসারের কাজকর্ম ও লেখাপড়ার ফাঁকে এ কাজ করে অনেকেই বাড়তি আয় করছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় মূলধন ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এই শিল্প বিকশিত হতে পারছে না।
হোসেনপুর উপজেলার কুড়িমারা, দিপেশ্বর গাঙ্গাটিয়া, পুমদি, ডাংরি, পানান, সৈয়দপুর, কেশেরা, গোবিন্দপুরসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের নারীরা শাড়িতে নকশা করছেন। সম্প্রতি সরেজমিনে কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সুই-সুতা দিয়ে কাপড়ে বাহারি আলপনা তুলতে ব্যস্ত নারীরা। তাঁদের সঙ্গে স্কুল-কলেজপড়ুয়া মেয়েরাও হাত লাগিয়েছে। তাঁদের হাতে তৈরি এসব পোশাকে লাগানো হচ্ছে নামী-দামি প্রতিষ্ঠান আর ব্র্যান্ডের স্টিকার। পরে এ শাড়িগুলো রাজধানীর বড় বড় মার্কেটের শোভা বাড়াবে।
স্থানীয় কারিগরেরা বলছেন, উপজেলায় প্রায় ১০ হাজারের বেশি নারী শাড়িতে নকশার কাজ করেন। বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁরা নিজ বাড়ির আঙিনায়, উঠানে ও ঘরের মেঝেতে এসব কাজ করেন। ঈদ এলে এসব পোশাকের চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ। সুই-সুতার বেশির ভাগ কাজ করেন নারীরা। সারা দেশেই তাঁদের হাতের এই নিপুণ কাজের কদর রয়েছে।
একই এলাকার আরেক নকশি কারিগর রুবিনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের হাতে তৈরি পোশাকের কদর আমরা তেমন বুঝি না। যখন মানুষজন এই পোশাকগুলো বড় বড় শোরুম থেকে কিনে ব্যবহার করেন, তখনই আমরা বুঝতে পারি এগুলো আমাদের হাতে তৈরি।’
গাঙ্গাটিয়া এলাকার নিমু আক্তার বলেন, কলেজ বন্ধ থাকায় তিনি মায়ের কাজে সহযোগিতা করছেন। এতে বাড়তি আয় হচ্ছে। কিন্তু তা কম। প্রতি শাড়িতে ৩০০ টাকা মজুরি পান তাঁরা।
নারী কারিগরেরা বলেন, বিভিন্ন দালাল বা মধ্যস্থতাকারীরা তাঁদের কাছে কাজের অর্ডার নিয়ে আসেন। তাঁরা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। যথেষ্ট মূলধন জোগাড় করতে পারলে তাঁরাই সরাসরি অর্ডার নিয়ে আসতে পারবেন। তখন তাঁরা ভালো মজুরিও পাবেন। এ শিল্পের বিকাশের জন্য সহজে ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার দাবি করেছেন।
হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ কাজে নিয়োজিত নারীদের বিষয়ে জরিপ চলছে। পরে তাঁদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।