শিশু রিফাত হত্যা মামলায় বাড়ির মালিক রিমান্ডে

রিফাত
রিফাত

রাজধানীর দক্ষিণখানে শিশু রিফাত (৮) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বাড়ির মালিক অজিত কুমার বসাককে (৫৫) এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। দক্ষিণখান থানা-পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এই আদেশ দেন।

দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অজিত কুমার বসাককে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু খুনের দায় তিনি স্বীকার করছেন না। তবে এই হত্যার রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি রাজমিস্ত্রি আবদুর রশীদের ছেলে মোল্লারটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র রিফাত নিখোঁজ হয়। এর দুদিন পর শিশু রিফাতের লাশ পাওয়া যায় অজিত কুমার বসাকের বাড়ির রিজার্ভ ট্যাংকে। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুর রশীদ অজিত কুমার বসাককে আসামি করে ২৬ ফেব্রুয়ারি খুনের মামলা করেন। মামলা হওয়ার পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি অজিত কুমার বসাককে গ্রেপ্তার করে দক্ষিণখান থানা-পুলিশ। সেদিন শিশু রিফাত হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্সের সামনে মহাসড়কে অবস্থান নেন এলাকাবাসী। বিমানবন্দর-টঙ্গী মহাসড়কের দুই পাশে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আদালত এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য অজিতকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশকে অনুমতি দেন।

রিফাতের বাবা আবদুর রশিদ মামলার এজাহারে বলেন, তিনি থাকেন দক্ষিণখানের পানির পাম্প-সংলগ্ন এলাকার মতিনের বাসায়। ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় তিনি কাজে চলে যান। কাজ থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাসায় ফিরে আসেন। তখন স্ত্রী তাঁকে জানান, তাঁর ছেলে রিফাতকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু কোথাও ছেলের সন্ধান পাননি। নিখোঁজের পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি ছেলের সন্ধান চেয়ে এলাকায়ও মাইকিং করান। কিন্তু রিফাতের সন্ধান পাওয়া যায় না। রিফাতের মা শাহানা তাঁর ছেলের খেলার সঙ্গীদের সঙ্গে কথা বলেন। খেলার সঙ্গী সিয়ামসহ আরও একজন তখন রিফাতের মাকে জানায়, ঘটনার দিন রিফাত তাঁর দুই খেলার সঙ্গীকে নিয়ে ঘুড়ি উড়াচ্ছিল। সেই ঘুড়ি অজিত কুমার বসাকের বাসায় আটকে যায়। তখন রিফাতসহ অন্য তিন শিশু ঘুড়ি আনার জন্য ওই বাসায় যায়।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, ঘুড়ি আনতে গেলে রিফাতসহ তিন শিশুকে ধাওয়া দেন বাড়ির মালিক অজিত কুমার বসাক। অন্য দুজন পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও রিফাতকে আটক করেন বাড়ির মালিক। পরে দুই দফা ওই বাসায় গেলে বাড়ির মালিক অজিত কুমার বসাক জানিয়ে দেন, বাসায় কোনো ছেলে আসেনি। ২৫ ফেব্রুয়ারি রিফাতের বাবা দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেদিন বাড়ির মালিক অজিত কুমার বসাকের বাসার রিজার্ভ ট্যাংক থেকেই শিশু রিফাতের লাশ উদ্ধার করা হয়।

বাড়ির মালিক অজিত কুমারকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে বলা হয়, রিফাতের বাবার অভিযোগ, ঘুড়ি আনার জন্য বাসায় যাওয়ার পর রিফাতকে আটক করে থাপ্পড় মারেন আসামি অজিত কুমার। তখন সে অজ্ঞান হয়ে যায়। রিফাতকে মৃত ভেবে লাশ রিজার্ভ ট্যাংকের ভেতর ঢুকিয়ে রাখেন।

আদালতে দক্ষিণখান থানা-পুলিশ প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে মামলার আসামি অজিত কুমার বসাককে তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কিন্তু আসামি জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুকৌশলে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন।

রিফাতের বাবা আবদুর রশীদ সোমবার রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিনি গরিব মানুষ। বাড়িওয়ালা অজিত কুমার পয়সাওয়ালা লোক। তাঁর ছেলেকে অজিত কুমারই হত্যা করে লাশ তাঁর বাড়ির রিজার্ভ ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রাখেন।’