সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ছাড়া অধস্তন আদালতের ১৭ জন বিচারকের বিদেশ যাওয়ার ওপর সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সরকার বক্তব্য দিয়েছে। সরকার সুপ্রিম কোর্ট ও সংশ্লিষ্ট বিচারকদের পৃথকভাবে জানিয়েছে যে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ছাড়া ওই বিচারকেরা বিদেশে গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, ১৭ বিচারকের কেউ সার্বক্ষণিক বিচারকের দায়িত্বে নেই। তাঁদের বিদেশ সফর বিধি অনুযায়ী ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’ অনুমোদন করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবের সই করা এক পরিপত্রে সরকারের এই অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ২২ মে সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ছাড়া ১৭ বিচারককে বিদেশ যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট বিচারকেরা শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হবেন বলেও সতর্ক করা হয়।
মন্তব্য চাওয়া হলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, যে বিষয়টি আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় এড়িয়ে চলছে, সেটা হলো বিচারকদের বিদেশ গমনে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান প্রশ্নে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির অনুশাসন জারি করার যুক্তি দিচ্ছে। অথচ হাইকোর্ট বিভাগ যে বিধির আওতায় তাঁদের বিদেশ গমনে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা এবং নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, হাইকোর্ট বিভাগকে সেই এখতিয়ার সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিই দিয়েছেন।
ওই ১৭ জন বিচারকের মধ্যে ১৪ জনেরই ২৯ মে থেকে অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্ট সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন মাসের উচ্চতর প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিদেশে যাওয়ার জন্য সরকারের অনুমোদন পাওয়া একজন বিচারক বলেছেন, বিষয়টি তাঁদের এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের গতকালের চিঠিতে বলা হয়েছে, জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত পদে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সার্ভিসের সদস্যদের প্রেষণে বা অন্যভাবে নিয়োগ করেন। প্রেষণে নিযুক্ত থাকাকালে ওই সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বর্ণনা করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
মাসদার হোসেন মামলার রায় অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে প্রণীত বিধিতে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’ অর্থ আইন ও বিচার বিভাগ।