শেরপুর-ঝিনাইগাতী সড়কে বগাডুবি সেতুর উদ্বোধন

শেরপুর-ঝিনাইগাতী সড়কে মরণফাঁদ হিসেবে পরিচিত বগাডুবি সেতুটি নতুন করে নির্মাণের পর উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শেরপুর-৩ (ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী) আসনের সাংসদ এ কে এম ফজলুল হক সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেন।
দুপুর ১২টার দিকে সেতুটি উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথের (সওজ) শেরপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুপ্তা চাকমা, ঝিনাইগাতীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ জেড এম শরীফ হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য মো. আবু তাহের, ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফারুক আহাম্মেদ ও সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. খলিলুর রহমানসহ এলাকাবাসী। এ উপলক্ষে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।
সমাবেশে সাংসদ ফজলুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। জনগণ যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে, সে জন্য সড়ক পথের ব্যাপক উন্নয়ন চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ নবনির্মিত বগাডুবি সেতুটি সর্বসাধারণ ও যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো। আশা করি, এ সেতুর মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষ জেলা সদরসহ দেশের অন্যান্য জেলায় সহজেই চলাচল করতে পারবে।’
সওজের শেরপুরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাজ শেষ হয়। এত দিন পাশের ঝুলন্ত সেতুর মাধ্যমে সড়কটিতে বিকল্প পথ চালু ছিল। সেতুটির নির্মাণে ব্যয় হয় ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এটির দৈর্ঘ্য ৪৭ দশমিক ৭২ মিটার, প্রস্থ ১০ দশমিক ৩ মিটার।
সওজ সূত্রে জানা যায়, ষাটের দশকে সোমেশ্বরী নদীর ওপর ৩৯ মিটার দীর্ঘ বগাডুবি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর সেতুটির উন্নয়ন বা এটি নতুন করে নির্মিত হয়নি। ফলে সেতুটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। সওজ সেতুটি বিপজ্জনক ঘোষণা দিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিলেও এর ওপর দিয়ে যানবাহন ও এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিলেন।
এ নিয়ে গত বছরের ১৩ জুলাই প্রথম আলোয় ‘শেরপুর-ঝিনাইগাতী সড়ক, সেতু যখন মরণফাঁদ’ শীর্ষক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।