ষাটোর্ধ্বদের প্রতি ১২ জনে একজন ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত: গবেষণা

ভুলে যাওয়ার সমস্যা যদি দীর্ঘমেয়াদি হয় তবে সেটি রোগ। প্রতীকী ছবিতে মডেল হয়েছেন নাসিম উদ্দিন আহমেদ
ছবি: সুমন ইউসুফ

দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের প্রতি ১২ জনের মধ্যে একজন ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি। তা ছাড়া যাঁদের স্ত্রী বা স্বামী নেই, সামগ্রিকভাবে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ তাঁদের মধ্যে অন্যদের চেয়ে বেশি।

আইসিডিডিআরবি এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশের শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলের ২ হাজার ৭৯৬ জন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির ওপর গবেষণাটি চালানো হয়েছে। বুধবার ‘বাংলাদেশের প্রবীণ ব্যক্তিদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ব্যাপকতা: জাতীয় সমীক্ষার ফলাফল’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনার হয়েছে। সেখানে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।

ডিমেনশিয়া হলে স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা, আচরণ এবং প্রতিদিনের কাজ করার করার ক্ষমতা কমে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বিশ্বব্যাপী প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের ডিমেনশিয়া রয়েছে এবং তাঁদের ৬০ শতাংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে বসবাস করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১২ জন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির মধ্যে একজন ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। নারীদের মধ্যে সমবয়সী পুরুষদের তুলনায় ডিমেনশিয়ার প্রকোপ আড়াই গুণ বেশি। দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় রাজশাহী (১৫ শতাংশ) ও রংপুরে (১২ শতাংশ) ডিমেনশিয়ার প্রকোপ বেশি।

ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অর্ধেকের বেশি (৫২ শতাংশ) উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, হতাশায় ভোগেন ৫৪ শতাংশ এবং ৮ শতাংশের ডায়াবেটিস রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি (৩৫ শতাংশ) অপুষ্টিতে ভোগেন। ৪৯ শতাংশ শারীরিক কর্মকাণ্ড কম করেন। ৫৬ শতাংশ বেশি পরিমাণে লবণ খান এবং তাঁদের ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি মাত্রায় তামাক সেবন করেন।

গবেষণায় যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের প্রায় সবাই শেষ ছয় মাসে চিকিৎসা নিতে গেছেন। তবে তাঁরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের চেয়ে বেশি গেছেন ওষুধ বিক্রেতার কাছে।

গবেষণার ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, ২০২০ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১১ লাখ মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ১৩ লাখ ৭০ হাজার এবং ২০৪১ সালের মধ্যে তা দ্বিগুণের বেশি হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিসি প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর ডা. রোবেদ আমিনের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, সমাজের মধ্যে ডিমেনশিয়া সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব রয়েছে, তাই অনেক দেরিতে এ রোগ ধরা পড়ে। এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, বিশেষত অনেক ধরনের রোগে আক্রান্ত বয়স্ক ব্যক্তিরা কোভিড-১৯ মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন। তারপরও এখানে প্রবীণদের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্যে সামগ্রিক পরিষেবা মডেল নেই। তাই সরকারি–বেসরকারি এবং গবেষণা সংস্থার প্রচেষ্টায় এ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।