বেতনবৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত

সব প্রথম শ্রেণির চাকরি শুরু নবম গ্রেডে

আন্দোলনের মুখে প্রথম শ্রেণির চাকরির শুরুতে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের কর্মকর্তাদের বৈষম্য দূর করার সিদ্ধান্ত নিল সরকার। এখন সব প্রথম শ্রেণির চাকরির শুরুতে বেতন হবে নবম গ্রেডে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বেতনবৈষম্য নিরসনসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের (সরকারি কলেজের শিক্ষক) টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের পরিবর্তে চতুর্থ গ্রেডের ৫০ শতাংশ অধ্যাপক পদোন্নতির মাধ্যমে গ্রেড-৩-এ যাবেন বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্ত জানান।
নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে ক্যাডার কর্মকর্তাদের অষ্টম ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের নবম গ্রেডে বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এ বিষয়ে অর্থসচিব বলেন, প্রথম শ্রেণির শুরুর পদে কেউ কেউ অষ্টম গ্রেডে ও কেউ কেউ নবম গ্রেডে হওয়ায় জটিলতা দেখা দিয়েছিল। এখন সবাই নবম গ্রেডের হবেন। এসব ক্যাডার ও সরাসরি নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের একটি বার্ষিক প্রবৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) দিয়ে বেতন নির্ধারণ করা হবে।
বর্তমানে প্রথম শ্রেণির পর্যায়ের কর্মকর্তা আছেন প্রায় এক লাখ। গত ডিসেম্বরে জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার পর গ্রেডবৈষম্যের প্রতিবাদে প্রকৃচি ও বিসিএস সমন্বয় কমিটির ব্যানারে আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। দাবি আদায়ে কর্মবিরতিসহ রাজপথেও নামেন তাঁরা।
জানতে চাইলে প্রকৃচি ও বিসিএস সমন্বয় কমিটির স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য স ম গোলাম কিবরিয়া প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবেন।
সরকারি কলেজের অধ্যাপকেরা সাধারণত চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। কিন্তু সিলেকশন গ্রেড পেয়ে এত দিন তাঁদের ৫০ শতাংশ গ্রেড-৩-এ উন্নীত হতে পারতেন। তবে নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিল করায় কলেজশিক্ষকদের চতুর্থ গ্রেডে থেকেই চাকরি শেষ করার উপক্রম হয়। এ নিয়ে আন্দোলনে নামেন কলেজশিক্ষকেরা।
সরকারি কলেজের শিক্ষকদের বিষয়ে অর্থসচিব বলেন, এখন এই ৫০ শতাংশ অধ্যাপক স্থায়ী পদোন্নতি পাবেন।
তবে মন্ত্রিসভা কমিটির এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সদস্যসচিব আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তা যেভাবে পঞ্চম গ্রেড থেকে সরাসরি তৃতীয় গ্রেডে যেতে পারেন, তাঁদের সেভাবে দিতে হবে।
পরবর্তী সভায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, মোটামুটিভাবে সব বিষয়ে একটি সমাধান হয়ে গেছে। শুধু একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের (শিক্ষকদের) দ্বিমত আছে। পরবর্তী সভায় তাঁদের চার-পাঁচজনকে (শিক্ষকনেতা) বৈঠকে রাখা হবে। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা ও একাধিক শিক্ষকনেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেকশন গ্রেডের পরিবর্তে পদোন্নতির সোপান তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের গ্রেড-১-এ যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ছাড়া নির্দিষ্টসংখ্যক জ্যেষ্ঠ অধ্যাপককে জ্যেষ্ঠ সচিবের সমমর্যাদা দেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু কত শতাংশকে এসব পদে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে, তা নিয়ে মতৈক্য হয়নি। ২৪ মার্চ শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করে এসব বিষয় সমাধান করা হবে।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, কাল শনিবার ফেডারেশনের সভায় এসব বিষয় পর্যালোচনা করে তাঁদের অবস্থান জানানো হবে।
গতকালের মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, জনপ্রশাসনসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।