রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের হেমায়েতপুরে পুলিশের হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার চার দিন পর গতকাল রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. নুরুজ্জামান। এ সময় তিনি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিলের আশ্বাস দেন।
গতকাল সকাল ১০টার দিকে ডিআইজি নুরুজ্জামান হেমায়েতপুর চামড়াশিল্প নগর পুলিশ ফাঁড়িতে যান। সেখানে তিনি ফাঁড়ির কক্ষগুলো ঘুরে দেখেন এবং পুলিশের কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বর্ণনা শোনেন। এরপর তিনি যান নিহত শামীম সরকারের বাসায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিলের আশ্বাস দেন। এ সময় ডিআইজির সঙ্গে ছিলেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন, সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল শেখ ও সাভার মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিআইজি নুরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে শামীমের মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড মনে হওয়ায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে আরও কারও সংশ্লিষ্ট থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাভার মডেল থানার পুলিশ গত বুধবার রাত আটটার দিকে হেমায়েতপুরের মোল্লাহ সিএনজি স্টেশনের পাশ থেকে শামীম ও তাঁর ভাগনে সাইফুল ইসলামকে আটক করে। পরে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে রাত তিনটার দিকে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় চামড়াশিল্প নগর পুলিশ ফাঁড়িতে। রাতে সেখানেই মারা যান শামীম।
ওই ঘটনায় নিহত শামীমের ভাই আমিন সরকার গত বৃহস্পতিবার সাভার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে অভিযোগ করা হয়, শামীমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কয়েক লাখ টাকা দাবি করেন পুলিশের কর্মকর্তারা। টাকা না দেওয়ায় তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।