সুনামগঞ্জে প্রায় চার হাজার প্রবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। এর মধ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবমতে গতকাল শনিবার পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন মাত্র ১৩৭ জন। বাকিরা কোথায়, কীভাবে আছেন, এ বিষয়ে প্রশাসনের কারও কাছে কোনো তথ্য নেই।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে ১ মার্চ থেকে গত শুক্রবার পর্যন্ত ইতালি, ফ্রান্স, ওমান, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চার হাজার প্রবাসী এসেছেন। এর মধ্যে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৩৭ জন। এই ১৩৭ জনের মধ্যে শুক্রবার ও গতকাল ৯৪ জনকে চিহ্নিত করে তাঁদের নিজ নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার প্রতিটি উপজেলায় প্রবাসীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। প্রবাসীদের খুঁজে বের করতে নানাভাবে গত এক সপ্তাহ চেষ্টা করেও তেমন কোনো ফল না পাওয়ায়, এবার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মাধ্যমে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরা মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে বিদেশফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। স্থানীয় কমিটিকে সহযোগিতা করবে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, গতকাল দুপুর পর্যন্ত জেলায় ১৩৭ বিদেশফেরত ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। এ সংখ্যা আরও বাড়বে। জেলাজুড়ে এখন এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এখন তালিকা পাওয়ায় সুবিধা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, আসলে সবাই এ সমস্যার বিষয়ে বোঝেন। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গায়, এ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়েছে। নানা মাধ্যমে মানুষ দেশ-বিদেশের খবর পাচ্ছেন। তবুও অনেকে কারণ ছাড়া শহরে বের হচ্ছেন। রেস্তোরাঁয় বসে চা খাচ্ছেন, গল্প করছেন। এসব আসলে দুঃখজনক।
তাহিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বলেন, তাঁরা তালিকা ধরে মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিচ্ছেন। মাইকিংসহ নানাভাবে গ্রামের হাটবাজারে প্রচারণা চালানো হয়েছে। যাঁদের পাওয়া যাচ্ছে, তাঁদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে। এখন সবাই মাঠে কাজ করছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, এখন গ্রামে গ্রামে, বাড়ি বাড়ি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় লোকজনকেও এ বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে। তাই কেউ এখন আর ইচ্ছা করলেই ঘর থেকে বের হতে পারবেন না। যাঁরা নির্দেশনা অমান্য করবেন, তাঁদের জেল-জরিমানা হবে।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) সাংসদ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, কোয়ারেন্টিনে আছেন মাত্র ১৩৭ জন। বাকিরা কোথায়, কীভাবে আছেন, তার কোনো তথ্য নেই। তিনি জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় বলেছেন, হোম কোয়ারেন্টিন ব্যর্থ। এতে কোনো কাজ হচ্ছে না। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে যেতে হবে। দ্রুত এ উদ্যোগ নিতে হবে।