এক পায়ে প্রতিদিন পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা সোনিয়া খাতুন (১২) নামের মেয়েটির পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের অনেক মানুষ। তাঁরা তার কৃত্রিম পা সংযোজন করে দেওয়া থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ারও ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
গত বুধবার প্রথম আলোর বিশাল বাংলা পাতায় সোনিয়া খাতুনকে নিয়ে ‘এক পায়ে প্রতিদিন পাঁচ কিলোমিটার!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। সেই প্রতিবেদন পড়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে অনেকেই প্রথম আলো কার্যালয়ে ফোন করেন। দেশের বাইরে থেকেও একই ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
গাজীপুর বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পাবনায় একটি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা, থাকা খাওয়াসহ সোনিয়ার সব দায়িত্ব বহনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ জাকারিয়া গত বুধবারই তাঁকে একটি হুইলচেয়ার ও এক জোড়া ক্র্যাচ পাঠিয়েছেন।
গতকাল সকালে তা প্রথম আলোর রাজশাহী কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে। একই উদ্দেশ্যে সোনিয়ার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের কাছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি ১২ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। আমাদের রংপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক আরিফুল ইসলামের কাছে এক ব্যক্তি দুই হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। ল্যাবএইড গ্রুপের পক্ষ থেকে মেয়েটির লেখাপড়াসহ সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সিআরপি ও কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান ইন্ডলাইট বাংলাদেশ এবং আর্টিফিশিয়াল লিম্ব তার কৃত্রিম পা সংযোজনে পৃথক প্রস্তাব করেছে।
পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) উদ্যোগে সুষ্ঠু পড়াশোনার স্বার্থে সোনিয়ার পরিবারকে এককালীন একটি তহবিল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জার্মানপ্রবাসী এক ব্যক্তিসহ অনেকের কাছ থেকেই হুইলচেয়ারের প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
দুই বছর বয়সে রেল দুর্ঘটনায় একটি পা হারায় সোনিয়া খাতুন। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পূর্বধোপা পাড়া গ্রামের মুজিবুর রহমানের মেয়ে সোনিয়া ধোপাপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী।