স্নাতক পাসের এক বছর আগেই বিএসসি শিক্ষক

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর বন্দর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে (সুখানপুকুর শহীদ জিয়াউর রহমান বালিকা উচ্চবিদ্যালয়) সহকারী শিক্ষক বিএসসি গণিত পদে চাকরির শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও একজনকে এ পদে নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্তির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষকের এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করলে জালিয়াতির বিষয়টি ফাঁস হয়।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর বন্দর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে (সুখানপুকুর শহীদ জিয়াউর রহমান বালিকা উচ্চবিদ্যালয়) সহকারী শিক্ষক বিএসসি গণিত পদে চাকরির শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও একজনকে এ পদে নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্তির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষকের এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করলে জালিয়াতির বিষয়টি ফাঁস হয়।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগবিধি অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক বিএসসি (গণিত) পদে চাকরির শিক্ষাগত যোগ্যতা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গণিতসহ বিএসসি পাস। ওই পদে কর্মরত একজনকে ২০০৪ সালে এ পদে নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্তির আবেদন করা হয়। যে সময় ওই শিক্ষককে এ পদে নিয়োগ দেখানো হয় ওই সময় তিনি স্নাতকের (সম্মান) শিক্ষার্থী ছিলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বিধি অনুযায়ী গাবতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন জমা দিলে কাগজপত্র যাচাই–বাছাইকালে সহকারী শিক্ষক বিএসসি (গণিত) পদে এমপিওভুক্তির আবেদনকারী শাহিদা আকতারের নিয়োগে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগবিধি অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক বিএসসি (গণিত) পদে চাকরির শিক্ষাগত যোগ্যতা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গণিতসহ বিএসসি পাস। ওই পদে কর্মরত একজনকে ২০০৪ সালে এ পদে নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্তির আবেদন করা হয়। যে সময় ওই শিক্ষককে এ পদে নিয়োগ দেখানো হয় ওই সময় তিনি স্নাতকের (সম্মান) শিক্ষার্থী ছিলেন।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের অনুলিপি সংগ্রহের পর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০০১ সালে গাবতলী উপজেলার সুখানপুরবাজারে প্রতিষ্ঠা করা হয় শহীদ জিয়াউর রহমান বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ছিলেন সাজেদুর রহমান। এ ছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে আবদুল গোফফার,  সহকারী শিক্ষক বিএসসি (গণিত) পদে মুক্তা আকতার, সহকারী শিক্ষক পদে সিরাজুল ইসলাম, রেজাউল করিম, রতন কুমার যোগদান করেন। পরে পুলিশ উপপরিদর্শক পদে চাকরি হলে প্রধান শিক্ষক সাজেদুর রহমান (বর্তমানে পরিদর্শক) ও রেজাউল করিম ইস্তফা দেন। অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি হলে মুক্তা আকতারসহ আরও কয়েকজন ইস্তফা দেন। সাজেদুর ইসলাম ইস্তফা দেওয়ায় পদটি শূন্য হলে সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুল গোফফার প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবর মাসে সরকারিভাবে এমপিওভুক্ত নতুন ২ হাজার ৭৩০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় স্থান পায় সুখানপুকুর শহীদ জিয়াউর রহমান বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। যাচাই-বাছাই শেষে গত ৩০ এপ্রিল নতুন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখানে সুখানপুকুর শহীদ জিয়াউর রহমান বালিকা উচ্চবিদ্যালয় বদলে সুখানপুকুর বন্দর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় নামটি প্রকাশ করা হয়।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, শিক্ষক–কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির জন্য প্রতি দুই মাস পরপর বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (ব্যানবেইসে) অনলাইনে আবেদন করতে হয়। এ আবেদনের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে শিক্ষকদের যোগ্যতার সনদসহ নিয়োগের কাগজপত্র যাচাই–বাছাই করা হয়। গত জুলাই মাসে সুখানপুকুর বন্দর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছয়জন শিক্ষকের এমপিওভুক্তির জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে কাগজপত্র জমা দেন।
অভিযোগ উঠেছে, সহকারী শিক্ষক বিএসসি (গণিত) পদে এমপিওর জন্য আবেদনকারী শাহিদা আকতারকে ২০০৪ সালের ১৫ মার্চ যোগদান দেখানো হয়েছে। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া সনদ অনুযায়ী, তিনি বিএসসি (স্নাতক) পাস করেছেন ২০০৫ সালে। অর্থাৎ স্নাতক পাসের এক বছর আগেই তাঁকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেখানো হয়েছে। যে তারিখে নিয়োগ দেখানো হয়েছে, সেই তারিখে ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার মতো তাঁর কোনো যোগ্যতা ছিল না।
সুখানপুকুর বন্দর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক দাবি করেন, ২০০৪ সালে নিয়োগ দেখানো হলেও ওই শিক্ষককে তাঁরা বিদ্যালয়ে আগে কখনো ক্লাস নিতে দেখেননি।

বিএসসি পাস না করেও শিক্ষক হিসেবে যোগদান এবং ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহিদা আকতার প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ২০০৪ সালে বিএসসি (গণিত) পাস করেছেন। সেই মোতাবেকই নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁর সনদে ২০০৫ সালে বিএসসি পাসের উল্লেখ থাকার বিষয়টি তাঁর নজরে আনা হলে তিনি বলেন, ফলাফল প্রকাশ ২০০৫ সালে হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা ২০০৪ সালেই দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি কোনো জালজালিয়াতির আশ্রয় নেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুখানপুকুর বন্দর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল গোফফার প্রথম আলোকে বলেন, ২০০৪ সালে শাহিদা অনার্সে পড়তেন। কলেজ থেকে আনা বিএসসি পাসের প্রত্যয়ন অনুযায়ী তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়ার এক বছর পর তিনি বিএসসি পাসের সনদ জমা দিয়েছেন। এমপিওর জন্য সেই মোতাবেক সনদ জমা দেওয়া হয়েছে। কলেজের প্রত্যয়ন দিয়ে বিএসসি শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার বৈধতা আছে কি না, তা জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, তিনি (শাহিদা) কাগজপত্র সংশোধন করবেন। কোনো সমস্যা হবে না।

শাহিদা আকতারের বিষয়ে জানতে চাইলে গাবতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সুখানপুকুর শহীদ জিয়াউর রহমান বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নাম পাল্টে চলতি অর্থবছরে নিম্নমাধ্যমিক স্তর এমপিওভুক্ত করা হয়। ব্যানবেইসের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি দুই মাস পরপর এমপিওর জন্য অনলাইনে আবেদন করা হয়। গত মাসে প্রথম ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এমপিওর জন্য আবেদন করেন। সেখানে সহকারী শিক্ষক বিএসসি (গণিত) পদে শাহিদা আকতারকে নিয়োগ দেখানো হয়েছে ২০০৪ সালে। অথচ তিনি বিএসসি পাস করেছেন নিয়োগ পাওয়ার এক বছর পর। কাগজপত্রে এ রকম গড়মিল ধরা পড়ায় তাঁর এমপিও আটকে আছে।