মাগুরা ও বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন মোটরসাইকেল আরোহী ও এক অটোভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার এবং ঈদের দিন বুধবার ও ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
মাগুরা: মাগুরায় ইঞ্জিনচালিত নছিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে সোহাগ (৩০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সদর উপজেলার পাকা কাঞ্চনপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সোহাগ শালিখা উপজেলার কালীবাড়ি গ্রামের ওহাব মোল্লার ছেলে।
মাগুরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পারভেজ আহমেদ জানান, নিহত সোহাগ একজন নির্মাণশ্রমিক। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে তিনি জানান, মোটরসাইকেলে করে মাগুরার দিকে আসছিলেন সোহাগ। পাকা কাঞ্চনপুর আসার পর বিপরীত দিক দিয়ে আসা ইঞ্জিনচালিত একটি নছিমনের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহী সোহাগকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
বগুড়া: বগুড়ায় ঈদের আনন্দে দর্শনীয় স্থান ঘুরে ফেরার পথে পৃথক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার প্রাণ ঝরেছে দুই তরুণ-তরুণীর। আরেক দুর্ঘটনায় পিকআপচাপায় নিহত হয়েছেন এক অটোভ্যানচালক।
হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার বন্ধুদের সঙ্গে বগুড়ার পাঁচ তারকা হোটেল মম ইনে ঘুরতে যান বগুড়া শহরের করনেশন ইনস্টিটিউশনের কলেজ শাখার উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্র আইনুর রহমান (২৩)। রাত সাড়ে আটটার দিকে মোটরসাইকেল চালিয়ে বগুড়া শহরের দিকে ফেরার পথে নওদাপাড়া এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ওঠামাত্র মাইক্রোবাসের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আইনুর নিহত হন। তাঁর বাড়ি গাবতলী উপজেলার লস্করীপাড়া গ্রামে।
হাইওয়ে পুলিশের গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেছে।
অন্যদিকে ঈদের দিন বুধবার সারিয়াকন্দি উপজেলার প্রেম যমুনা ঘাটে বেড়ানো শেষে বন্ধুর মোটরসাইকেলে বগুড়া শহরে ফিরছিলেন স্মৃতি (২৩) নামে এক তরুণী। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগলে স্মৃতি নিহত হন। তাঁর বাড়ি শহরের ফুলদীঘি এলাকায়।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
অপর দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ঈদের দিন সন্ধ্যায় নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে।
প্রত্যক্ষদর্শীও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে ঈদের দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানচালক কাশেম আলী (৪২)। কয়েকজন যাত্রী ভ্যানে উঠে পড়েছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যান চাপা দিলে চালক কাশেম আলীসহ অপর তিন যাত্রী আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় কাশেম আলীকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত কাশেম আলী বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কুন্দারহাট সিংজানি গ্রামের বাসিন্দা।
কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক কাজল কুমার নন্দী জানান, দুর্ঘটনার পর পিকআপ ভ্যানের চালক শফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।