'হঠাৎ মনে হলো আমার তো পা নেই'

বাসচাপায় পা হারানো কৃষ্ণা রায়। পাশে স্বামী রাধে শ্যাম। গতকাল পঙ্গু হাসপাতালে। ছবি: প্রথম আলো
বাসচাপায় পা হারানো কৃষ্ণা রায়। পাশে স্বামী রাধে শ্যাম। গতকাল পঙ্গু হাসপাতালে।   ছবি: প্রথম আলো

‘সকালে ঘুম ভাঙার পর মনে হলো, বারান্দা থেকে একটু হেঁটে আসি। বিছানা থেকে ওঠার চেষ্টা করি। ব্যথার কারণে উঠতে পারছিলাম না। হঠাৎ মনে হলো আমার তো পা নেই, কেটে ফেলেছে।’ এটুকু বলার পর গলার স্বর থেমে এল কৃষ্ণা রায়ের। কান্না চেপে রাখার চেষ্টা করেও পারলেন না, কয়েক মিনিট পর চোখ মুছতে মুছতে বললেন, ‘আমার পা নেই, এটা মনেই হচ্ছে না।’ 

গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) কেবিনে কথা হয় কৃষ্ণা রায় চৌধুরীর সঙ্গে। তাঁর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মো. আবদুর রব প্রথম আলোকে বলেন, অস্ত্রোপচারে কারও পা কাটার পর মস্তিষ্ক তাঁকে সিগন্যাল (সংকেত) দেয়, পা আছে। যে কারণে পা কেটে ফেলার বিষয়টি তিনি ভুলে যাচ্ছেন। এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য সময় লাগবে। তিনি বলেন, শনিবার (আজ) কৃষ্ণা রায়ের কাটা পায়ের ব্যান্ডেজ খোলা হবে। অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিম পা বসানোর উপযোগী করে তোলা হবে। রোববার তাঁর কাটা পায়ে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হতে পারে। 

 কৃষ্ণা রায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক। গত মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ের ফুটপাতে হাঁটছিলেন তিনি। তখন ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্টের বেপরোয়া গতির একটি বাস রাস্তা থেকে ফুটপাতে উঠে তাঁকে চাপা দেয়। এতে তাঁর বাঁ পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকেরা তাঁর হাঁটু থেকে নিচের অংশ কেটে ফেলেন। 

জানতে চাইলে কৃষ্ণা রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক কষ্ট। ব্যথায় দিন-রাতে ঘুম হয় না। ঘুমানোর চেষ্টা করি, তন্দ্রার মতো আসে। আমার লাইফটা শেষ হয়ে গেল। আমি তো আর মুক্ত মনে চলতে পারব না, ঘরের কোনো কাজও করতে পারব না। আমার জীবনটা কীভাবে যাবে।’ 

কৃষ্ণা রায়ের চাওয়া প্রধানমন্ত্রী তাঁকে যেন একটিবার দেখতে আসেন। তাঁকে নিজের কষ্টের কথা জানাতে চান তিনি। 

প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলার সময় কৃষ্ণার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর ভগ্নিপতি রবীন্দ্র কর্মকার, ছোট বোন শুক্লা রায়। তাঁর বোন বলেন, ‘দিদি সারা দিন কাঁদেন আর বলেন, তাঁর সঙ্গে কেন এমনটা ঘটল। দিদির কথা শুনে কান্না ধরে রাখা যায় না।’

এদিকে কৃষ্ণা রায়কে চাপা দেওয়া বাসটির মালিক, চালক ও চালকের সহকারীকে গত চার দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই খায়রুল আলম বলেন, আসামিদের ধরতে থানা-পুলিশ এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। তাঁরা আশা করছেন, দ্রুত গ্রেপ্তারের খবর সবাইকে জানাতে পারবেন।