কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা এলাকার পাহাড়ে গত বুধবার দিবাগত রাতে দুই দল ডাকাতের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা মামলার দুই আসামি নিহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়ার পূর্বপাড়ার সরওয়ার হোসেন ওরফে বতইল্যা (৩০) ও মো. ইলিয়াছ (৩৪)।
পুলিশ জানায়, ৩ জুলাই রাতে মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল গফুর ওরফে নাগু মেম্বারকে (৪৫) গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় করা মামলার আসামি ছিলেন সরওয়ার ও তাঁর সহযোগী ইলিয়াছ।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল চন্দ্র বণিক বলেন, সরওয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত জলদস্যু ও বনদস্যু। তাঁর বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা আছে। তাঁর সহযোগী ইলিয়াছের বিরুদ্ধে মামলা আছে দুটি।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবদুল মজিদের ভাষ্যমতে, গত বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে দমদমিয়া পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। পুলিশের তিনটি দল সেখানে গিয়ে জানতে পারে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টেকনাফের ডাকাত আবদুল হাকিম ওরফে হাকিম ডাকাতের দলের সঙ্গে একই এলাকার নুরুল হাকিম ওরফে শিয়াল্ল্যা ডাকাতের দলের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি চলছে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা ফাঁকা গুলি করতে করতে পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ দুটি লাশ পাওয়া যায়। সেখান থেকে একটি এলজি, একটি একনলা বন্দুক ও একটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে লাশ দুটির ময়নাতদন্ত হয়।
সরওয়ারের ছোট বোন আনজুমান আরা বেগম বলেন, সকালে ফেসবুক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁরা ঘটনাটি জানতে পারেন। এরপর তাঁরা লাশের জন্য মহেশখালী থেকে হাসপাতালে ছুটে আসেন। তিনি বলেন, ২ জুলাই থেকে তাঁর ভাই বাড়িতে ছিলেন না।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবদুল মজিদ বলেন, সরওয়ারের লাশ তাঁর বোনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ইলিয়াছের লাশ নিতে কেউ আসেননি।