
হাতিরঝিল প্রকল্পের মধ্যবাড্ডা উত্তর ইউ আকৃতির যান চলাচল সেতু বা ইউলুপের নির্মাণকাজ থেমে আছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদের পর শ্রমিকেরা ফিরে না আসায় কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। দেখা গেছে, নির্মাণকাজ শুরুর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ খুব একটা এগোয়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, প্রগতি সরণির পূর্ব পাশে নির্মাণাধীন এলাকা টিন দিয়ে ঘিরে রাখা। কাজ বন্ধ। শ্রমিক নেই। দায়িত্বরত কয়েকজন সহকারী প্রকৌশলী নির্মাণাধীন বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখছেন। ইউলুপের পশ্চিম পাশের নির্মাণকাজ এখনো শুরুই হয়নি। পূর্ব পাশের তিনটি থাম, কয়েকটি গার্ডার এবং একটি দেয়াল আকৃতির (অ্যাপার্টমেন্ট) থামের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। একটি থামের মাথায় কংক্রিটের ভারা (হেড) নির্মাণের জন্য লোহার কাঠামোয় ঢালাই জমানো হচ্ছে। বাকি থাম দুটোয় হেড বসানোর কাজ ধরা হয়নি। পূর্ব পাশে, ইউলুপ থেকে প্রগতি সরণিতে গাড়ি ঢোকার সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ।
দায়িত্বপ্রাপ্ত পাওয়ার ইলেকট্রিশিয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, সতর্কতার সঙ্গে কাজ চলছে। রামপুরা ইউলুপের চেয়ে দ্রুতগতিতে এ ইউলুপের কাজ চলছে। রামপুরা ইউলুপ নির্মাণের অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লাগছে।
জানা গেছে, ইউলুপের দুপাশে ৬টি থাম ও ২টি অ্যাপার্টমেন্টের ওপরে ২৩টি গার্ডার বসবে। এর মধ্যে পূর্ব পাশে ১১টি ও পশ্চিম পাশে ১২টি গার্ডার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গার্ডারের ওপর র্যাম্প (যান চলাচলের পথ) বসিয়ে ছাদ নির্মাণ করা হবে। পশ্চিম পাশে, অ্যাপার্টমেন্টের ওপর দিয়ে র্যাম্প উঠে গিয়ে ইউলুপের মূল অংশে যুক্ত হবে। পূর্ব পাশে, শেষ মাথার অ্যাপার্টমেন্টের ওপর দিয়ে র্যাম্প নেমে যাবে সড়কে। দুপাশের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে ইস্পাত নির্মিত গোলাকার গার্ডার। প্রগতি সরণির পশ্চিম পাশ দিয়ে গাড়ি উঠে পূর্ব পাশে নামবে।
নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলেন, থাম নির্মাণের জন্য মাটির গভীর থেকে পাইলিং করতে হয়। মাটির নিচে ও ওপরে রয়েছে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ। সেগুলো বাঁচিয়ে অথবা সরিয়ে দিয়ে কাজ করায় কিছু জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাই পাইলিংয়ের পরিকল্পনায় বেশি সময় লাগছে।
জানা গেছে, ছুটির আগে প্রায় ৪৫ জন অভিজ্ঞ শ্রমিক কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করতেন। রডের খাঁচা তৈরি, ড্রেন, পাইলিং, কলাম (থাম) জোড়া দেওয়া, গার্ডার ও নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য আছে আলাদা দল।
দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলীদের একজন শামীম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নকশা ধরেই কাজ করা হচ্ছে। তবে অবস্থা ও পরিস্থিতি বুঝে পুরো কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনে নকশায় কিছু কিছু পরিবর্তন হতেও পারে। ঈদের পর শ্রমিকসংকটের কারণে এখনো কাজ শুরু হয়নি।’
নকশা অনুযায়ী এ ইউলুপের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৫০ মিটার, প্রস্থ ১০ মিটার। প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ প্রকৌশল নির্মাণ ব্যাটালিয়ন। নির্মাণকাজের দায়িত্বে আছে স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিরঝিল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রাজউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামাল আক্তার ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাজ চলছে। ঈদের ছুটির পর শ্রমিকেরা ফিরে না আসায় কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। আমাদের মূল কাজ হয়ে গেছে। ডাইভারশন রোড করা হয়েছে। অন্য ইউটিলিটি শিফটিংগুলোও খুব দ্রুত হয়ে যাবে। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পশ্চিম পাশের কাজ শুরু হয়ে যাবে। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’