সাটুরিয়ার বালুর চর-নয়াপাড়া সড়ক

২৮ বছরেও হয়নি সেতু

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের বালুর চর এলাকায় ভেঙে পড়া সেতু। বুধবার তোলা ছবি l প্রথম আলো
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের বালুর চর এলাকায় ভেঙে পড়া সেতু। বুধবার তোলা ছবি l প্রথম আলো

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের বালুর চর এলাকায় নির্মিত সেতুটি প্রায় ২৮ বছর আগে ভেঙে গেছে। এরপর আর সেখানে সেতু নির্মাণ করা হয়নি। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬-৮৭ সালে বালুর চর-নয়াপাড়া সড়কের হরগজ বাজারের দক্ষিণ পাশে সেতু নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৮ সালের বন্যার সময় সেতুটি ধসে পড়ে। এরপর সেখানে আর সেতু নির্মাণ করা হয়নি।
গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, পানিতে ধসে পড়া সেতুটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় সেতুর পশ্চিম পাশ দিয়ে কাদা মাড়িয়ে হেঁটে যাতায়াত করছে শিক্ষার্থীসহ আশপাশের মানুষ। কেউ কেউ সেতুর দুই প্রান্তে রিকশা, হ্যালোবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমে হেঁটে সেতুর ওপর প্রান্তে গিয়ে রাস্তায় উঠছেন।
এলাকাবাসী বলেন, সেতুটি ধসে যাওয়ায় নয়াপাড়া, সরদারপাড়া, পাটনীবাঁধা, মৃধাপাড়া, মোল্লাপাড়া, বালুর চর, মোল্লাকান্দি, দক্ষিণপাড়া ও মধ্যকান্দি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে। ওই স্থানে সেতু নির্মাণ না করায় বালুর চর, মোল্লাকান্দি, দক্ষিণপাড়া ও মধ্যকান্দি গ্রামের মানুষকে প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকা ঘুরে কান্দাপাড়া হয়ে জেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়।
নয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা প্রকৌশলী লুৎফর রহমান বলেন, দরগ্রাম বাজারে স্কুল-মাদ্রাসা ও হাটবাজার রয়েছে। সেতু না থাকায় নয়াপাড়া, সরদারপাড়া, মৃধাপাড়া, পাটনীবাঁধা ও মোল্লাপাড়া গ্রামের শত শত শিশুশিক্ষার্থী হেঁটে স্কুল-মাদ্রাসায় যায়। বর্ষাকালে ভোগান্তি বেড়ে যায়। গত বর্ষায় ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে গিয়ে পানিতে পড়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। তা ছাড়া হাটবাজারে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করতে ওই সব গ্রামের কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
হরগজ শহীদ স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ইমরান হোসেন বলে, সেতুর অভাবে রিকশা বা হ্যালোবাইক চলাচল করতে না পারায় দীর্ঘ পথ হেঁটে তাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষাকালে পয়সা খরচ করে ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে হয়।
সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আ খ ম নূরুল হক বলেন, তাঁর দায়িত্ব পালনকালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সে সময় হরগজ বাজার থেকে নয়াবাড়ি মোড় পর্যন্ত রিকশা ও ভ্যান চলাচল করত। সেতুটি ধসে যাওয়ার দীর্ঘ ২৮ বছরেও ওই স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে আশপাশের শিক্ষার্থী, কৃষকসহ প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সাটুরিয়া উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান বলেন, সেতু নির্মাণে ইতিমধ্যে মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) করা হয়েছে। এরপর বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হবে। বরাদ্দ পেলেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে।