অনুমতি না নিয়ে লাগানো পোস্টার, ব্যানার ৩০ মের মধ্যে না সরালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক। আজ রোববার ডিএনসিসির নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
গত বৃহস্পতিবার ফেসবুকে সরাসরি ভিডিও সম্প্রচারের মাধ্যমে নাগরিকদের মুখোমুখি হয়েও আনিসুল হক পোস্টার দিয়ে পুরো ঢাকা শহরকে নোংরা করে ফেলার নিন্দা জানান।
গতকাল শনিবার ছিল সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির অষ্টম জাতীয় সম্মেলন। মূলত এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই পুরো ঢাকা শহরে লাগানো হয় পোস্টার। দলের মূল নেতাদের ছবিসংবলিত এসব পোস্টার, ব্যানারের মাধ্যমে সম্মেলন সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল হক বলেন, ‘ঢাকা শহরকে সুন্দর করতে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৫৬টি ওভারব্রিজ সাজানো হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা ব্যানার, পোস্টার লাগিয়ে দিচ্ছেন। এসব পোস্টার, ব্যানার ৩০ মের মধ্যে সরিয়ে না নিলে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জাতীয় পার্টির (জাপা) সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সারা শহরে যত পোস্টার লাগানো হয়েছে, তার অধিকাংশই জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনের নামে। বেশ কিছু পোস্টার আছে জাতীয় পার্টির আরেক কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য এ টি ইউ তাজ রহমানের নামে।
দেখা যায়, মহাখালী, সাতরাস্তা, বনানী, কাকলী, মিরপুর, গুলশান, উত্তরা এলাকার দেয়াল, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছে লাগানো হয়েছে পোস্টার। ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনের দেয়াল, দোকানের শাটার কোনো কিছুই বাদ যায়নি। বনানী, খিলক্ষেত, কাওলা এলাকায় অবস্থিত পদচারী-সেতুগুলোতে লাগানো হয়েছে রাজনৈতিক ব্যানার।
গত বছর হওয়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ নিজেও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদপ্রার্থী ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুদ্দিন আহমেদ আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টির পোস্টার বছরে এক-দুবার লাগানো হয়। ছয় বছর পর এবার কাউন্সিল, তাই লাগানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের লোকজন প্রত্যেক দিন পোস্টার লাগায়। তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা? আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।’ সরকারি দল উদ্যোগ নিলে আর কেউ পোস্টার লাগাবে না বলে তিনি দাবি করেন।
গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর, আদাবর এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা সাদেক খান। তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, ধানমন্ডি এলাকায় অনেকেই পোস্টার, ব্যানার লাগিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে সাদেক খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব পোস্টার, ব্যানার আমারও চোখে পড়েছে। গত শনিবার থেকে এগুলো তুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি। সব পোস্টার, ব্যানার সরিয়ে নেওয়া হবে।’