প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে প্রতিরক্ষা চুক্তি হলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যাবে এবং স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে বলে যুক্ত বিবৃতিতে দাবি করেছেন দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক।
বুধবারের ওই বিবৃতিতে বিএনপি-জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত এই নাগরিকবৃন্দ বলেছেন, ‘৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা সমঝোতা স্মারকসহ নানা বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান না হওয়ায় জনগণ উদ্বিগ্ন ও হতাশ। আমাদের পররাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চুক্তি হতে পারে। তবে ভারতের সঙ্গে অতীতের চুক্তির অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। ১৯৭৪ সালে তিন বিঘা করিডরের বিনিময়ে বাংলাদেশ ভারতকে বেরুবাড়ি দিয়ে দেয়। কিন্তু ৪৩ বছর পার হলেও ভারত বাংলাদেশকে চুক্তি অনুযায়ী তিনবিঘা করিডর হস্তান্তর করেনি। ফারাক্কাসহ ভারত-বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীর ওপরে বাঁধ দিয়ে ভারত বাংলাদেশকে প্রাপ্য পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছে।’
সরকারের সমালোচক এই নাগরিকবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশের পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে ভারত, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তের অল্প অংশে মিয়ানমার ও বঙ্গোপসাগর। তিন দিকের সীমান্তে বন্ধু রাষ্ট্র ভারত থাকার কারণে অন্য কোনো দেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই। তাই বাংলাদেশের জনগণ মনে করে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা সমঝোতা স্মারকের প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে বাংলাদেশের জনগণ তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন চুক্তি, সীমান্ত বাংলাদেশি হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস প্রভৃতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর ও কার্যকর দেখতে চায়।’
বিবৃতিতে তাদের দাবি, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যাবে এবং স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে। তাই দেশবাসীর সঙ্গে আমরাও আশা করি বর্তমান সরকার ও সরকার প্রধান জনগণকে অন্ধকারে রেখে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী যেকোনো চুক্তি কিংবা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকবেন।’
বিবৃতিতে সই করেছেন কবি আল মাহমুদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মো. ইব্রাহিম বীর প্রতীক, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদ, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন, ভাষা সৈনিক মো. আবদুল গফুর, সর্ব ধর্মীয় সম্প্রীতি সভার কো-চেয়ারম্যান সুকোমল বড়ুয়া, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. খোরশেদ আলম, বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি শওকত মাহমুদ ও সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন গাজী প্রমুখ।