বিবৃতি
বিবৃতি

দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ ২৫ আদিবাসী সংগঠনের

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ২৫টি আদিবাসী ছাত্র, যুব, নারী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো বলেছে, আদিবাসী বিষয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্য ‘আপত্তিকর, ইতিহাস ও বাস্তবতাবিবর্জিত’। সংগঠনগুলো আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার নিশ্চিত করাসহ চার দফা দাবিও জানিয়েছে ।

গত মঙ্গলবার ঢাকায় চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্যের পর এ বিবৃতি দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওই বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ আদিবাসী নয়।’ তিনি আরও বলেছেন, ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিকের মূল পরিচয় বাংলাদেশি। তাঁর মতে, দেশে কোনো ‘আদিবাসী’ গোষ্ঠী নেই। একই অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘আদিবাসী’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক।

সংগঠনগুলো বলেছে, দুই মন্ত্রীর এমন বক্তব্য তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশ বহু জাতি, বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির দেশ। বৃহত্তর বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি ৫০টির বেশি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রথা ও জীবনধারা নিয়ে বসবাস করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে আদিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ছিল। তবে স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় আসা সরকারগুলো আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, এর ফলে আদিবাসীরা বর্তমানে নিজেদের জাতীয় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সংকটের মুখে পড়েছে।

চার দাবি

বিবৃতিতে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—বাংলাদেশের আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া; আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারসহ ভূমি, ভূখণ্ড ও প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা; সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জ্ঞান সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ, সুরক্ষা ও বিকাশের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ২০০৭ সালের জাতিসংঘের আদিবাসীবিষয়ক ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন করা।

বিবৃতিতে যে ২৫ সংগঠন স্বাক্ষর দিয়েছে সেগুলো হলো বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল, ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরাম, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফোরাম, বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ খুমী স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ খেয়াং স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস), বাংলাদেশ গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন (জিএসএফ), বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠন (বাহাছাস), বাংলাদেশ মাহাতো আদিবাসী ছাত্র সংগঠন), হাজং স্টুডেন্ট কাউন্সিল (হাসুক), বাংলাদেশ গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু), খাসিয়া স্টুডেন্ট ইউনিয়ন, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরাম, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ, আরফি, জাহাঙ্গীরনগর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবার, ইন্ডিজিনাস স্টুডেস্টস ইউনিয়ন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিজিনাস স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং অ্যাসোশিয়েশন অব ইন্ডিজিনাস স্টুডেন্টস।