
‘পলিটিক্যাল ব্রেকআপ’ শব্দবন্ধটিকে বাংলায় ‘রাজনৈতিক বিচ্ছেদ’ বলা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত একটি জরিপে যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল ব্রেকআপের বিস্তৃতি, কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক পিটার ডিট্টো এবং তাঁর এক পিএইচডি গবেষক। সহজ ভাষায়, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কোনো বন্ধু, পরিবারের সদস্য, রোমান্টিক সঙ্গী বা সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া বোঝাতে তাঁরা এই ‘পলিটিক্যাল ব্রেকআপ’ শব্দবন্ধটি প্রবর্তন করেছেন। প্রায় ৩ হাজার ৮০০ অংশগ্রহণকারীর তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা দেখেছেন, রাজনৈতিক মতের অমিলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক হারিয়েছেন।
একইভাবে বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনাবলির প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া আমাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত ও পরিবর্তিত করছে, তা আলোচনার দাবি রাখে। আমরা আমাদের যাপিত জীবন থেকেই দেখতে পাচ্ছি, রাজনৈতিক মতভেদের কারণে সামাজিক সম্পর্ক ও পারিবারিক বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে গঠনমূলক রাজনৈতিক আলোচনার পরিসরও ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। সামগ্রিকভাবেই এটা দেশের সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার জন্য হুমকিস্বরূপ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিভাজনের ইতিহাসের দিকে তাকালে একদম শুরুতে চলে যেতে হয়। দেখা যায়, স্বাধীনতা ও নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অখণ্ড পাকিস্তান রক্ষার নামে একটি গোষ্ঠী কেবল এর বিরোধিতায় সক্রিয় হয়ে ওঠেনি, বরং রীতিমতো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধেও লিপ্ত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্থান-পতনের প্রক্রিয়া মুক্তিযুদ্ধের সেই পক্ষ-বিপক্ষকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের উৎসে পরিণত করে। ফলে এই বিরোধী গোষ্ঠীর প্রতি একাত্তর সালে জনসমর্থন যত সামান্যই হোক না কেন, স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছর পর সেই বিভাজন ও বিভক্তি একটু একটু করে বড় আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি সে সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দল ও শক্তি এবং প্রবাসী সরকারের ভেতরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যেও রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক বিরোধ ও বিভক্তি ছিল, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে পড়েছিল।
স্বাধীনতা-উত্তর সরকারের নানামুখী সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্ভিক্ষ, বাকশাল গঠন, শেখ মুজিব হত্যা, চার নেতা হত্যা, জিয়াউর রহমান হত্যা, জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসন—এসব ঘটনা যেমন রাজনীতিতে বাঁক এনেছে, তেমনি জন্ম দিয়েছে নানামুখী বিভাজনের।
আবার বিভিন্ন সময় আন্দোলনের প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলো যেমন জোটভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, সময়ের পরিক্রমায় নিজেদের পথ আবার আলাদাও করে ফেলেছে। যেমন নব্বইয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী জোট এবং বাম দলগুলো যুগপৎ আন্দোলন করে এরশাদের স্বৈরশাসনের সমাপ্তি ঘটিয়েছিল। একানব্বইতে জামায়াতের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করলেও পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী যুগপৎ সরকার পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলন শুরু করে। ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সরকার গঠনে সাহায্য করে, অংশ নেয়।
এরপর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে ক্ষমতায় যায়। আওয়ামী লীগ আবার জোট সরকার পতনের আন্দোলন জোরদার করে। প্রবল রাজনৈতিক সহিংসতার মুখে ২০০৭-২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। ২০০৮ সালের শেষে নির্বাচনে বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ একনাগাড়ে প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকে। এই দীর্ঘ সময়ের উত্থান-পতনের রাজনীতির প্রভাবে ছাত্র, শ্রমিকসহ সব গণসংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মধ্যে রাজনৈতিক বিভক্তি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। শুধু সংগঠন নয়, ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে এবং পরিবারের মধ্যেও রাজনৈতিক বিচ্ছেদ ঘটতে থাকে।
২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপি-জামায়াতের প্রায় ৩৫ বছরের জোট ভেঙে যায়। বর্তমানে তারা সরকার ও বিরোধী দল হিসেবে মুখোমুখি অবস্থানে আছে। জনমনে প্রশ্ন থেকেই যায়, রাজনৈতিক প্রয়োজনে আবার কখনো বিএনপি-জামায়াতকে একসঙ্গে দেখা যাবে কি না। তবে সে সম্ভাবনা এখন দেখা না গেলেও উভয় দলের নেতৃত্বই উভয় দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যুক্ত হয়ে পড়ার অভিযোগ তুলছে এখন।
আমাদের আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, দেশ পরিচালনা কিংবা সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে দলগুলো যেখানে নিজেদের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টাতে দ্বিধা করে না, সেখানে দলের নেতা-কর্মী না হয়েও নিছক সমর্থনকারী হয়ে আমরা সাধারণ মানুষেরা অনেক সময় নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বারবার নষ্ট করে ফেলি। কিন্তু কেন এ রকম হয়?
এটা কি শুধুই দলের প্রতি স্বার্থহীন ভালোবাসা, নাকি রাজনৈতিক সমর্থনের আড়ালে নানা সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ট্রাম্পকার্ড? কেননা সরকারি দলের সমর্থক ও পেশাজীবীরা প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং বিগত সরকারের সমর্থকেরা জেলে বন্দী হয়ে থাকবে—এ যেন এক অলিখিত বিধানে পরিণত হয়েছে। ‘আমরা’ বনাম ‘তারা’ সমীকরণ সূত্রে শুধু নিজেদের দলই ভারী করা হয়।
অর্থাৎ শর্তহীন আনুগত্য ও অপর পক্ষকে তীব্র ঘৃণা করতে পারার যোগ্যতা থাকলেই ক্ষমতাসীনদের বিশ্বস্ত হওয়ার সার্টিফিকেট যেমন পাওয়া যায়, তেমনি নানা আর্থিক ও সামাজিক আনুকূল্যও নিশ্চিত করা যায়। এমনকি অনেক বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বও তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করেন নির্দিষ্ট দলকে মাথায় রেখে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক নিজেদের অস্তিত্ব গুলিয়ে ফেলেন সাদা, নীল আর গোলাপি রঙের আতিশয্যে। দলপ্রীতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে বন্ধু, সহকর্মী কিংবা আত্মীয়ের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, যেকোনো একটি রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী বা সমর্থক হওয়া স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। কিন্তু নির্মোহ বিচার-বিশ্লেষণ যদি দলীয় পছন্দ-অপছন্দের চাদরে ঢাকা পড়ে যায় বা রাজনৈতিক মতাদর্শ যদি বস্তুনিষ্ঠভাবে চিন্তা করতে বাধা দেয়, তাহলে আত্মজিজ্ঞাসা জরুরি হয়ে পড়ে। প্রখ্যাত মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলৎস তাঁর বাংলাদেশ: অ্যান আনফিনিশড রেভোল্যুশন বইয়ে (১৯৭৯) লিখেছেন, ‘আমি বস্তুনিষ্ঠতা এবং নিরপেক্ষতার মধ্যে একটি পার্থক্য করে থাকি, যে পার্থক্যটি অনেকের কাছে স্পষ্ট না–ও হতে পারে। বস্তুনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে কোনো আপস বা শর্ত থাকতে পারে না, ঠিক যেমন নির্ভুল অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও কোনো আপস চলে না; তবে আমি এটাও স্বীকার করি যে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকার কোনো অবকাশ নেই...কারণ, যখন গোপন বিচার এবং গোপন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো বিষয় সামনে আসে, তখন আমার পক্ষে “নিরপেক্ষ” থাকা সম্ভব হয় না, যে কেউ এসব অপরাধ করে থাকুন না কেন, আমি তার নিন্দা জানাই।’
লিফশুলৎসের কথাটিকে যদি বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা হয়, তাহলে সমাজের বুদ্ধিজীবী বা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী, যেমন সাংবাদিক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী ও অন্যদের কি নিজের সমর্থিত দলের অপকর্মের সমালোচনা করতে দেখি?
জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের ১৯৭১ সালের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দলের সম্পৃক্ততা নিয়ে সমালোচনা করতে দেখা যায় না; উল্টো ২০২৬ সালে এসেও তাদের বলতে শোনা যায়, ‘উই আর গোলাম আযম’! একইভাবে বিএনপি–সংশ্লিষ্ট বুদ্ধিজীবী বা সমর্থকদের ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সরব হতে দেখা যায় না। আওয়ামী লীগের সমর্থক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ২০২৪ সালের সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের দায় নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় না।
আবার কোনো নির্দিষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য যখন বিচার চাওয়া হয়, তখন সেটা নিয়েও ‘রাজনীতি’ করা হয়। যিনি ২০১০ কিংবা ২০১২ সালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চেয়েছেন, তিনি যেন কোনোভাবেই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নিহত হওয়া শিশু-কিশোর-যুবকদের জন্য বিচার চাইতে পারবেন না! বিষয়টি এতটাই বিপরীতমুখী হিসেবে দেখা হয় যেন একটি অপরাধের জন্য বিচার চাইলে আরেকটির জন্য বিচার চাওয়া যায় না! আর যদি ‘ভুল করে’ সব আমলে সংঘটিত অপরাধের বিচার আপনি চেয়েই ফেলেন, তবে নিশ্চিতভাবেই সবার শত্রুতে পরিণত হবেন।
রাজনৈতিক মতভেদের কারণে সামাজিক সম্পর্ক ও পারিবারিক বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে গঠনমূলক রাজনৈতিক আলোচনার পরিসরও ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে
কোনো নির্দিষ্ট দলের শাসনামলের সমালোচনা করার কারণেই যদি সেই দলের কাছে চিরদিনের জন্য টার্গেট হতে হয়, তবে সুস্থ আলোচনা-সমালোচনার পরিবেশ গড়ে ওঠার কোনো সুযোগ থাকে না। বাংলাদেশ এখন ঠিক এমনই এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পলিটিক্যাল ব্রেকআপ বা রাজনৈতিক বিচ্ছেদের এমন উপযুক্ত উদাহরণ বোধ হয় আর কোথাও পাওয়া যাবে না।
ওপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছি, কিন্তু কেবল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নয়, জনপ্রশাসন, আদালত বা গণমাধ্যম—যেকোনো পেশার দিকে তাকালে একই চিত্র দেখা যাবে। সেখানে নিজ কর্মগুণের চেয়ে দলীয় রঙের ভিত্তিতে ব্যক্তিকে শ্রেণিভুক্ত করা হয়, এবং সে অনুযায়ী তাঁকে অগ্রাধিকার কিংবা উপেক্ষা করা হয়। সুবিধা পাওয়ার আশায় সাধারণ মানুষ হয় প্রকাশ্যে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় বহন করে, নয়তো বৈষম্যের আশঙ্কায় মিথ্যা রাজনৈতিক পরিচয় ধারণ করে বা চুপ থাকাটাকেই শ্রেয় মনে করে।
লেখার শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল ব্রেকআপ নিয়ে যে জরিপটির কথা উল্লেখ করেছি, বাংলাদেশেও তেমন একটি জরিপের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়। বিশেষত এটা জানা দরকার, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ঠিক কত শতাংশ মানুষ রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে বন্ধু, আত্মীয় বা সহকর্মীর সঙ্গে রাজনৈতিক বিচ্ছেদের দুঃখজনক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন এবং সমাজেই-বা এর কী
প্রভাব পড়েছে।
বর্তমান বাংলাদেশের একটি প্রকৃত প্রতিচ্ছবি বোঝার জন্য এটা জরুরি এবং এর ভিত্তিতে আমাদের সামাজিক জীবনের বিদ্যমান বিভাজনের মাত্রা কমানোর পথ সন্ধান করতে পারি। খুঁজতে পারি, কীভাবে দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা চালিয়ে যাওয়ার সাহস করা যায়। রাজনৈতিক ময়দানের আলাপ চায়ের কাপে ঝড় তুলুক, গণতান্ত্রিক চর্চাকে উজ্জীবিত করুক, কিন্তু পরস্পরের মনের দরজায় আঘাত না করুক—এটুকু প্রত্যাশা থাকল!
* উম্মে ওয়ারা, সহযোগী অধ্যাপক, ক্রিমিনোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়