
কাউকে হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা করা হলে তদন্ত শেষে বাদীকেই আসামি করা হয় বলে উল্লেখ করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, এখানে বাদীর বিন্দুমাত্র নৈতিকতা থাকলে এ ঘটনা ঘটে না।
সোমবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে ‘বাদীই যখন আসামি’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আইজিপি এসব কথা বলেন। বইটি লিখেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার মো. শাহজাহান হোসেন।
আইজিপি বলেন, অনেক সময় কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দিয়ে দিতে হবে, বিচার করতে হবে—এমন দাবি ওঠে। সবাই জানেন, বিচার একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এর পরও জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে পীড়াপীড়ি করা হয়; কিন্তু সবকিছুরই একটি নির্ধারিত সময় লাগে।
এ সময় নিজের কর্মজীবনের একটি ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আইজিপি বলেন, ‘শেরাটন হোটেলের সামনে একটি বাস পোড়ানোর মামলায় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এক আসামিকে ধরে নিয়ে এলে সে বাস পুড়িয়েছে বলে স্বীকার করে। আদালতে ১৬৪ ধারায় সে বাস পোড়ানোর বিষয়টি স্বীকারও করে। পরে ওই আসামির আইনজীবী আদালতে জানান, ঘটনার সময় ওই আসামি রমনা থানার হেফাজতে (কাস্টডি) ছিল। তাহলে বোঝেন, চাকরি কমিশনারেরও থাকে না, ডিসি ডিবিরও থাকে না।’
‘বাদীই যখন আসামি’ বইটি প্রকাশ করেছে আদি প্রকাশনী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আদি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মো. জাহিদুল হোসেন সুমন। বই সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন লেখক পুলিশ কর্মকর্তা শাহজাহান হোসেন।
অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।