র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার ‘ক্যামেরা ট্রায়ালের’ মাধ্যমে সেই সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
সাক্ষীর নিরাপত্তার স্বার্থে ‘ক্যামেরা ট্রায়ালের’ মাধ্যমে জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। বিচারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যক্তি ছাড়া সংবাদকর্মীসহ অন্যরা ক্যামেরা ট্রায়ালের সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকতে পারেন না। যাতে করে সাক্ষীর পরিচয় প্রকাশ না পায়।
এর আগে এই মামলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আসামি ১৭ জন।
তার মধ্যে ১০ আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁরা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম ও এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম সুমন ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, শেখ হাসিনার উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ সাত আসামি পলাতক।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলায় তৃতীয় সাক্ষী সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমীর জবানবন্দি সম্পন্ন হয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে জেরা করার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
এই মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে ৩ জন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
মামলার বাকি ১০ আসামি পলাতক। পলাতক আসামিদের মধ্যে আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক। এ ছাড়া পলাতক আছেন গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।