সড়ক দুর্ঘটনা
সড়ক দুর্ঘটনা

মেয়র হানিফ উড়ালসড়কে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাচালকসহ নিহত ২

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মেয়র হানিফ উড়ালসড়কে শুক্রবার রাতে বেপরোয়া গতির একটি বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ দুজন মারা গেছেন। রাত ৯টার দিকে হানিফ উড়ালসড়ক থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সাইফুল ইসলাম (৪০) ও অটোরিকশার মিস্ত্রি মো. ইমরানকে (৪৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মেয়র হানিফ উড়ালসড়ক থেকে অটোরিকশাচালক সাইফুল ও ইমরানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান ফায়ার সার্ভিসের ফুলবাড়িয়া সদর দপ্তরের লিডার পবিত্র কুমার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাতে মেয়র হানিফ উড়ালসড়কে উঠে একটি অটোরিকশা হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায়। ওই অটোরিকশার চালক রফিক মিয়া (৫০)। এ সময় তাঁর পূর্বপরিচিত অটোরিকশার চালক সাইফুল মিস্ত্রি ইমরানকে নিয়ে রফিকের অটোরিকশা মেরামত করতে যান। সাইফুলের অটোরিকশায় তাঁর আট বছর বয়সী শিশু লামিন ছিল। রাত ৮টার দিকে দ্রুতগতির একটি বাস এসে সাইফুলের অটোরিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে সাইফুলের অটোরিকশাটি ছিটকে থেমে থাকা রফিকের অটোরিকশার ওপর পড়ে। এ সময় অটোরিকশাচালক সাইফুল তাঁর আট বছর বয়সী শিশু, মিস্ত্রি ইমরান ও নষ্ট অটোরিকশার চালক রফিক মিয়া আহত হন। খবর পেয়ে ফুলবাড়িয়ার ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট তাঁদের উদ্ধার করতে যায়। বাসের চাপায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গেছে।

পবিত্র কুমার বলেন, রক্তাক্ত অবস্থায় চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল ও ইমরানকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশু লামিন ও অটোরিকশার চালক রফিক মিয়াকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রাতে যোগাযোগ করা হলে যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী রমজানুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আল আরাফা নামের বাসটি আটক করলেও চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছেন। বাসটি ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল।

নিহত অটোরিকশাচালক সাইফুল সপরিবার মোহাম্মদপুরের সুনিবিড় হাউজিংয়ে থাকতেন। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধায়। আর ইমরান থাকতেন মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে। তাঁর বাবার নাম মো. আব্বাস।