
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় এক হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন। জামিন চেয়ে তাঁর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রুলসহ এ জামিন দেন।
এই মামলায় জামিন হওয়ায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।
পৃথক সাত মামলায় জামিনের পর গত ২৩ মে যাত্রাবাড়ী থানার ওই মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট খোবাইব নামের একজনকে হত্যার অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলাটি করেন নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ। এতে শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় অধস্তন আদালতে ২১ জুন খায়রুল হকের জামিন নামঞ্জুর হয়। এরপর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে গত রোববার আবেদন করেন তিনি।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন ও জাহাঙ্গীর হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আট মামলার মধ্যে অপর সাত মামলায় খায়রুল হককে হাইকোর্ট জামিন দিয়েছিলেন, যা আপিল বিভাগ বহাল রেখেছেন। সর্বশেষ গ্রেপ্তার দেখানো যাত্রাবাড়ী থানার ওই মামলার এজাহারে খায়রুল হকের নাম ছিল না। এই মামলায় এখন জামিন হওয়ায় তাঁর কারামুক্তিতে আইনি বাধা নেই।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা–সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।
বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলের কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে আছেন।