
বান্দরবানে বসবাসরত ম্রোদের মধ্যে মাত্র দুই নারী ও চারজন পুরুষ রেংমিটচা ভাষায় কথা বলেন। তাদের মৃত্যুর পর ভাষাটিও হারিয়ে যাবে এটি এখন নিশ্চিত একটি বিষয়।
তাই এই ভাষা সংরক্ষণের তাগিদ থেকে রেংমিটচা ভাষার একটি ‘শব্দের বই’ (ওয়ার্ড বুক) প্রকাশ করেছেন ম্রোভাষার লেখক ও গবেষক ইয়াংঙান ম্রো।
‘মিটচ্য তখক বা রেংমিটচা ভাষা শব্দের বই’ নামের এই বই প্রসঙ্গে ইয়াংঙান ম্রো বলেছেন, ম্রো জনগোষ্ঠী তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে শুধু বান্দরবানে বসবাস করে।
আলীকদম উপজেলার দুর্গমে ম্রোদের একটি অংশ রেংমিটচা নামের ভাষায় কথা বলেন। মূলধারার ম্রো ভাষা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্যের এই ভাষার শতাধিক পরিবার ছিল গত শতকের ৫০ ও ৬০–এর দশকেও।
কিন্তু মূলধারার ম্রো ভাষার সঙ্গে মিশে যেতে যেতে বর্তমানে মাত্র ছয়জন এই ভাষা জানা মানুষ রয়েছেন। তাঁরাও রেংমিটচা ভাষায় কথা বলেন না। কারণ ভাষা জানা ছয়জন প্রত্যেকে পৃথক পরিবারে থাকেন। একক রেংমিটচা ভাষার পরিবার নেই।
অর্থাৎ ভাষা জানা ছয়জন থাকলেও রেংমিটচা ভাষায় কথা বলার বা ভাব আদান-প্রদানের কেউ নেই। এই অবস্থায় ছয়জন ভাষা জানা মানুষ মারা গেলে রেংমিটচা ভাষাটিও বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই ভাষাটিকে সংরক্ষণ করার জন্য শব্দের বই অর্থাৎ ওয়ার্ড বুক বের করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানালেন সংকলক ইয়াংঙান ম্রো।
গত সোমবার আলীকদম থেকে জেলা শহরে এসেছিলেন ৫৮ বছরের থোয়াইংলক ম্রো। রেংমিটচা ভাষা জানা ছয়জনের মধ্যে তিনি একজন। ‘মিটচ্য তখক’ বই প্রকাশের সংবাদ পেয়ে এসেছেন জানিয়ে থোয়াইলক বলেন, ৭৬ বছরের মাংপুন ম্রো খুবই অসুস্থ। তিনি মারা গেলে রেংমিটো ভাষা জানা মানুষ হবে মাত্র পাঁচজন।
থোয়াইংলক ম্রো নিজের ভাষা নিয়ে বই প্রকাশিত হওয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আরও আগে এ রকম পদক্ষেপ নিলে ভাষাটিকে টিকিয়ে রাখা যেত।
বইটির লেখক ইয়াংঙান ম্রো বলেন, নিউইয়র্কের ডারমুথ কলেজের শিক্ষক ডেভিড এ পিটারসন ২০১৩ সালে খুমি ও ম্রো ভাষা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে রেংমিটচা ভাষার ম্রোদের আলীকদমে খুঁজে পেয়েছিলেন। ওই শিক্ষকের সঙ্গে তিনিও কাজ করেছিলেন।
তখন কম-বেশি ৩২ জন রেংমিটচা ভাষা জানা নারী-পুরুষ পাওয়া গিয়েছিল। তবে এখন তা কমে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। প্রায় তিন হাজার শব্দ নিয়ে ‘মিটচ্য তখক’ বইটি বের করা হয়েছে। বইয়ে রেংমিটচা ভাষায় শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, গাছপালা, পশুপাখি, পোশাক ও খাদ্যের নামসহ একই বর্গের বিভিন্ন নাম দেওয়া হয়েছে।