স্বামীর মৃত্যুর পর আদালত ১২ ঘণ্টার জন্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির প্যারোল মঞ্জুর করেন। মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারের সামনে
স্বামীর মৃত্যুর পর আদালত ১২ ঘণ্টার জন্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির প্যারোল মঞ্জুর করেন। মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারের সামনে

এখন আমি জামিন চাই না, ট্রাইব্যুনালকে বললেন দীপু মনি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ‘আমি দুই বছর ধরে কারারুদ্ধ আছি। গত এপ্রিল মাসে আমার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এখন আমি জামিন চাই না। আমি জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই।'

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন দীপু মনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আজ তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আজকে তাঁর জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল।

আজকে ট্রাইব্যুনালে জামিন শুনানি শুরুর আগে কথা বলার অনুমতি চান সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি। তাঁকে ট্রাইব্যুনাল কথা বলার অনুমতি দেন। পরে ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে দীপু মনি এসব কথা বলেন।

দীপু মনি বলেন, 'এর আগে জামিন আবেদন শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, বাসায় গিয়ে কী করবেন? এখন আমার আর বাসায় যাওয়ার দরকার নেই। আমার স্বামী তৌফিক নেওয়াজ সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। তাঁর বাকশক্তিও ছিল না। কোনো কথা বললে চোখের পলক ফেলে উত্তর দিতেন তিনি। আমি পাঁচ বছর সরকারি দায়িত্বপালনের সময় শয্যাশায়ী স্বামীর যত্ন নিয়েছি। এ অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে আমার স্বামীকে দু্ বছর অজ্ঞাত স্থানে থাকতে হয়েছে। আশ্রিত অবস্থায় ছিলেন। আমিও যত্ন নিতে পারিনি। এ জীবন তিনি মেনে নিতে পারেননি।'

গত ১৮ আগস্ট রাতে দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ মারা যান।  গত ২৬ এপ্রিল দীপু মনির জামিন আবেদন করেছিলেন তাঁর আইনজীবী।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চার মাস আগে তাঁর স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলেও উল্লেখ করেন দীপু মনি। তিনি বলেন, 'তখন তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য জামিন আবেদন করেছিলাম। ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে কাছে থাকতে পারেননি।  এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর কার কাছে যাব? সন্তানরা জামিন চায়। আমার বাসায় যাওয়ার আর তাড়া নেই।'

তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, তাঁরা খুবই ব্যথিত। দীপু মনির আবেদনের যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু তাঁদের আরও অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়।

দীপু মনির জামিন শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তাঁরা জামিন শুনানির সময় উপস্থিত ছিলেন।