
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালের হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রাজধানীর বনানী থানায় করা একটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রয়েছে। তাঁর জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ সোমবার এ আদেশ দেন।
মামলায় জামিন বহাল থাকায় খায়রুল হকের কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।
বনানী থানায় করা এই মামলায় অধস্তন আদালতে গত ২৭ জুলাই বিফল হন খায়রুল হক। পরে ৯ আগস্ট হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তিনি। তাঁর করা এই আবেদনের শুনানি নিয়ে ১০ আগস্ট হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে, যা আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ৭৫ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু, আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ছিদ্দিকী ও মো. মোখলেছুর রহমান।
পরে আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। ৯টিতেই তিনি জামিন পেয়েছেন। ৯টির মধ্যে বনানী থানার মামলায় জামিন বহাল থাকায় তাঁর কারামুক্তিতে আপাতত আইনগত কোনো বাধা নেই।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।
খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে আছেন।
পৃথক আট মামলায় জামিনের পর বনানী থানার মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য গত ২ জুলাই আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ মামলায় ৮ জুলাই খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
খায়রুল হকের আইনজীবীর তথ্যমতে, এর আগে পৃথক ছয় মামলায় জামিনের পর আবার নতুন করে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে গত ১৩ মে হাইকোর্টে রিট করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক।
রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৭ মে হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। আদেশে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন ও লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে রাষ্ট্রপক্ষ। সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন ৯ আগস্ট নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এ–সংক্রান্ত রুল হাইকোর্টে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। ফলে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ শুধু তাঁর ক্ষেত্রে বহাল থাকার কথা জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আর বনানী থানার যে মামলায় (নবম মামলা) খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সে মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আজ বহাল রইল।