
দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘কমিউনিটি ডিজিটাল স্টোরি টেলিং ফেস্টিভ্যাল’ (সিডিএসটিএফ)। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের আয়োজনে এ উৎসব আগামী শুক্র ও শনিবার ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবের স্লোগান—‘রিয়েল স্টোরিজ বাই রিয়েল পিপল’।
সিডিএসটিএফকে সামনে রেখে গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সিডিএসটিএফের সমন্বয়ক আলিফেন্নেসা আলিফ, সাবমিশন ম্যানেজার সাদমান ইসলাম, পিআর ম্যানেজার মুহাম্মদ আসি্ফ উল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. লিজা শারমিন, সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক আফতাব হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ও ফেস্টিভ্যালের উপদেষ্টা ড. কাবিল খানসহ বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে সাদমান ইসলাম জানান, সিডিএসটিএফের মূল উদ্দেশ্য দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিত, পিছিয়ে পড়া, খেটে খাওয়া, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর না বলা গল্প তুলে ধরা। এসব গল্প বরাবরই মূলধারার গণমাধ্যমে উপেক্ষিত হয়ে আসছে, যা শিক্ষার্থীরা এ ফেস্টিভ্যালের মাধ্যমে মুঠোফোন ব্যবহার করে তুলে ধরবেন।
‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সাস্টেইনবিলিটি’ থিমকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা যথাক্রমে ‘উন্মুক্ত’, ‘সাংবাদিকতা’, ‘এক মিনিট’ ও ‘ডিআইইউ বেস্ট কমিউনিটি গল্প’ বিভাগে নিজেদের বানানো চলচ্চিত্রগুলো জমা দিয়েছেন।
২০২৩ সালের শুরু থেকে এ আয়োজনের কার্যক্রম শুরু হয়। ফেস্টিভ্যালের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও অংশগ্রহণের পদ্ধতিসহ নানা বিষয়ে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনলাইন, মিডিয়া ও সরেজমিনে গিয়েও ফেস্টিভ্যালের প্রচারণা চালানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুঠোফোন দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের ৯টি দেশ থেকে মোট ১০৬টি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। যার মধ্যে ৭৩টি চলচ্চিত্র প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করে ফেস্টিভ্যালের বিচারক পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁরা ৩৯টি চলচ্চিত্রকে প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত করেন। ফেস্টিভ্যালের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীরা আকর্ষণীয় পুরস্কারের পাশাপাশি পাবেন মিডিয়া গবেষক ও স্বনামধন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ।
উৎসবে প্রধান বিচারক হিসেবে ছিলেন আয়াজ খান। তিনি পাকিস্তানে মোবাইল জার্নালিজমের (মোজো) প্রসারে অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ আয়োজনে বিচারক হিসেবে আরও ছিলেন মাল্টিমিডিয়া আর্টিস্ট অধ্যাপক ড. মার্তা মিয়াস্কোওসা। তিনি প্রযুক্তি লডজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন অনুষদে গবেষণা এবং শিক্ষণ কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত আছেন।
এ ছাড়া ছিলেন শিল্পী, লেখক, গবেষক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা, লিথুয়ানিয়ার আর্টিসোকাই ফিল্ম প্রোডাকশনের নুরুজ্জামান খান; সাংবাদিক, উপস্থাপক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও ডিডাব্লিউ একাডেমি এশিয়া ও ইউরোপ ডয়চে ভেলের প্রজেক্ট ম্যানেজার ও প্রশিক্ষক ফাহমিম ফেরদৌস।
ফেস্টিভ্যালের প্রথম দিনে বিশেষ অতিথি হিসেবে চলচ্চিত্র পরিচালক এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির হেড অব কনটেন্ট অনিন্দ্য ব্যানার্জি এবং প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ডক্টর এম লুতফর রহমান।
দ্বিতীয় দিনে বিশেষ অতিথি হিসেবে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ডক্টর লিজা শারমিন ও প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের প্রকল্প পরিচালক ড. মোফাখখারুল ইসলাম।
সিডিএসটিএফের কৌশলগত অংশীদার প্রথম আলো ডটকম। সার্বিক সহযোগিতায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।