সমুদ্রপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগে সিমেন্টবোঝাই ইঞ্জিনচালিত দুটি নৌকা জব্দ করাসহ ১৯ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। গত বৃহস্পতিবার সেন্ট মার্টিন দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
শুক্রবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নৌবাহিনী নিয়মিত টহল পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সেন্ট মার্টিনসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে ১ হাজার ১৫০ বস্তা সিমেন্টসহ দুটি নৌকা ও ১৯ জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়।
আইএসপিআর জানায়, সমুদ্রপথে অবৈধভাবে সিমেন্ট পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সেন্ট মার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদার করে নৌবাহিনী। এ সময় নৌবাহিনীর টহল জাহাজ ‘প্রত্যাশা’ সেন্ট মার্টিন বাতিঘর থেকে ৩৮ মাইল দূরে একটি সন্দেহজনক নৌকা দেখতে পায়। নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে থামার সংকেত দিলে নৌকাটি পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে ‘এফবি সীমান্ত’ নামের নৌকাটি জব্দ করা হয়। নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫০ বস্তা সিমেন্ট, ২৫০ কেজি ডাল–চানা, ১৬০ কেজি আদা এবং ৩৬০ বোতল এনার্জি ড্রিংক উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একই এলাকায় পৃথক অভিযানে সন্দেহজনকভাবে চলাচলরত ‘এফবি সুরভি’ নামের আরও একটি মাছ ধরার নৌকা (ফিশিং বোট) জব্দ করা হয়। তল্লাশি করে এই নৌকা থেকে ৭০০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। দুটি নৌযান থেকেই চোরাকারবারি দলের ১৯ সদস্যকে আটক করেছে নৌবাহিনী।
আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধিক মুনাফার আশায় সিমেন্টগুলো মিয়ানমারে পাচার করা হচ্ছিল। জব্দ করা মালামাল ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নৌবাহিনীর ফরোয়ার্ড বেস সেন্ট মার্টিনে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস, মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে নৌবাহিনীর অভিযান ও টহল অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।