‘উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখো, বিশ্বজুড়ে…’ স্লোগানে প্রথম আলো ডটকমের আয়োজনে ২৪ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয় দশ দিনব্যাপী ‘স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার’। এ আয়োজনে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিজয়ী ১১ জনের মধ্যে দশজন পেয়েছেন ‘স্মার্ট ওয়াচ’। মেগা বিজয়ী হিসেবে ঢাকার উম্মে আতিয়া পেয়েছেন স্মার্ট ওয়াচ, এয়ার বাডস ও ব্লটুথ স্পিকার।
‘দিনের বিজয়ী’ হিসেবে পুরস্কার পান চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. মাশির হোসেন, লক্ষীপুরের আবদুল জব্বার বাপ্পী, খাগড়াছড়ির কৌশলী চাকমা, চট্টগ্রামের মো. কফিল উদ্দিন মাহমুদ, জোবেদা আক্তার, মনিরুজ্জামান প্রভাত, রৌশন আরা বেগম, নোয়াখালীর মোসলেহ উদ্দিন, ফেনীর মীর ফারহান ইসলাম ও নাজমুন নাহার।
ব্রিটিশ কাউন্সিল নিবেদিত স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ারে পাওয়ার্ড বাই হিসেবে ছিল ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস এবং ব্যাংকিং পার্টনার ছিল প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ছিল ফরেন অ্যাডমিশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ফ্যাড–ক্যাব)।
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, ব্রিটিশ কাউন্সিলের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট শেহ্রীন শিবলী এবং ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাসের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর সাইফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আনিসুল হক বলেন, ‘শিক্ষিত মানুষই পারে পৃথিবী বদলে দিতে। উচ্চশিক্ষার জন্য অনেকে বিদেশে গিয়ে সেখানেই ক্যারিয়ার গড়েন, আবার অনেকে দেশে ফিরে নিজের দক্ষতা কাজে লাগান। অবস্থান যেখানেই হোক, উভয়ই মানবতার সেবায় নিয়োজিত। তাই বিদেশে থাকা বা দেশে ফেরা—দুটোই সমর্থনযোগ্য।’ বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিজয়ীরাই আমাদের শক্তি। তাঁদের উপস্থিতিই আমাদের নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সাহস ও অনুপ্রেরণা দেয়।’
শেহ্রীন শিবলী বলেন, ‘ব্রিটিশ কাউন্সিল সাধারণত তরুণদের জন্য শিক্ষামূলক উদ্যোগগুলোতে যুক্ত হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার তেমনই একটি সফল আয়োজন, যা থেকে আমরা বেশ সাড়া পেয়েছি। বিজয়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আপনাদের প্রতি পরামর্শ, সব সময় নতুন কিছু শিখুন এবং সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন; কারণ শেখার কোনো বিকল্প নেই।’
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিজয়ীদের আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিনন্দন। মালয়েশিয়ার ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে “ক্রস বর্ডার হায়ার এডুকেশন”-এর ভিত্তিতে তাদের ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। কিউএস ওয়ার্ল্ড সাবজেক্ট র্যাংকিংয়ে ইউসিএসআই সবসময়ই ১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে স্থান পায়। প্রথম আলোর এ ধরনের শিক্ষাবিষয়ক আয়োজনের সঙ্গে আমরা ভবিষ্যতেও পাশে থাকতে চাই।’
ফেয়ারের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন প্রথম আলোর ডিজিটাল বিজনেস বিভাগের উপব্যবস্থাপক বিবর্ধন রায় ইমন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সিনিয়র কনটেন্ট ম্যানেজার খায়রুল বাবুই।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার নাজমুস সাকিব আহমেদ এবং প্রথম আলোর প্রথম আলোর চিফ ডিজিটাল বিজনেস অফিসার এ বি এম জাবেদ সুলতান, সহকারী মহাব্যবস্থাপক রুহুল আমিন রনি, ডিজিটাল মার্কেটিং লিড মেহবুব জাবেদ, সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হাসান, জ্যৈষ্ঠ নির্বাহী বিপাশা বালা শান্তা প্রমুখ।
কুইজ বিজয়ী কৌশলী চাকমা বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও অবসরে আমি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিই। তবে এই কুইজে বিজয়ী হব, তা ভাবিনি। ফোন করে যখন আমাকে সুসংবাদটি দেওয়া হলো, ভীষণ খুশি হয়েছি। এমন সুন্দর একটি আয়োজনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’
দশ দিনব্যাপী স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ারে ছিল শিক্ষাপরামর্শকবিষয়ক ২০টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য, অফার, ফিচার, ভিডিও কনটেন্ট এবং প্রতিদিনের কুইজ প্রতিযোগিতা। এর মাধ্যমে এইচএসসি থেকে শুরু করে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও কোর্স নির্বাচন, ভর্তিপ্রক্রিয়া, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ও বৃত্তি-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার সুযোগ পেয়েছেন।
প্রথমবার আয়োজিত স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ারের ওয়েবসাইটে (studyabroadfair.pro) ভিজিটর ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৩৮৬ জন। আর কুইজে আড়াই হাজার বার অংশ নিয়েছেন এক হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী। অনলাইনের পাশাপাশি ২৪ ও ২৫ অক্টোবর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় দুই দিনব্যাপী অফলাইন আয়োজন। সেখানে ১০ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থী উপস্থিত হয়েছিলেন।