আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিং করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। ২০ সেপ্টেম্বর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিং করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। ২০ সেপ্টেম্বর

ইনুর মামলায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, সাজা বাড়াতে আপিল করা হবে: প্রসিকিউটর মিজানুল

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে ঘোষিত রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে তাঁরা আপিল করবেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আজ রোববার এক ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চলতি বছরের ৩০ জুন রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল–২। এ মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তিনটি অভিযোগেই তাঁকে ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হয়। ঘোষিত রায়ে ট্রাইব্যুনালটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেছিলেন, তিনটি অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়েছে ১০ বছর করে, তাহলে ৩০ বছর হয়। কিন্তু এই সাজা যুগপৎ চলবে। তার মানে সাজা হবে ১০ বছর।

আজ ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, তাঁরা দু-তিন দিন আগে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পেয়েছেন। তাঁরা যথাসময়ে আপিল করবেন।

আপিল করার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনাল রায়ে ইনুর উপস্থিতি কোনো ফৌজদারি অপরাধ (ক্রিমিনাল অফেন্স) ঘটেনি বলে একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ওই মামলার রায়ের একটি পর্যায়ে ইনু কারফিউকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এই কনফ্লিক্ট (সংঘাত) এবং তাঁর ক্রিমিনাল (ফৌজদারি অপরাধ) দায় সৃষ্টি হয়নি—এই মর্মে ট্রাইব্যুনাল যে বক্তব্য দিয়েছেন, এটা প্রসিকিউশনের দৃষ্টিতে যথার্থ ও আইনসংগত হয়নি। প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালের ওই আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়েছে। তাঁরা এর বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে আপিল করবেন।