ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত

ট্রাকচালক হোসেন হত্যা: হাসিনাসহ ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আবার পেছাল

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির তারিখ আবার পিছিয়েছে। নতুন তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই মামলায় ১০ জন আসামি কারাগারে আছেন। তাঁদের মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলককে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়েছিল। এ কারণে তাঁকে এ মামলায় আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। তাই অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট এই মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির নির্ধারিত ছিল। এই মামলায় জামিনে থাকা তিন আসামি অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তাঁদের সেদিন আদালতে হাজির করা যায়নি। এ কারণে সেদিন শুনানি পিছিয়ে ১ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছিলেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনাসহ এ মামলার ৩৪ আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে আছেন। জামিনে থাকা চার আসামিও আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি ২০ জন শুরু থেকেই পলাতক।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক হোসেন। সেদিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন হোসেন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহত ব্যক্তির মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে হাসিনাসহ ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে আছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।