জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট স্থগিত করে ১৫ হাজার টাকায় জামায়াতের নির্বাচনী সমাবেশের অনুমতি

আন্তবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ স্থগিত করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচনী সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে এই অনুমতি দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে টুর্নামেন্ট স্থগিত করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁরা ব্যাপক ক্ষোভ জানিয়েছেন।

রোববার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলা মাঠে দুপুরে এই নির্বাচনী সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামী। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী রোববার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সকাল ৯টায় মনোবিজ্ঞান বিভাগ বনাম দর্শন বিভাগ, সকাল ১০টায় আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ বনাম রসায়ন বিভাগ, বেলা ১১টায় লোকপ্রশাসন বিভাগ বনাম পরিসংখ্যান বিভাগ এবং দুপুর ১২টায় ইতিহাস বিভাগ বনাম ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া ছাড়াই গত শনিবার রাতে ধূপখোলা মাঠে প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ শুরু করে জামায়াতে ইসলামী। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিম আহমেদ মিথিল তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ধূপখোলা তথা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে জামায়াতের সমাবেশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই দিনে একই স্থানে খেলার সূচি থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতির কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবু জামায়াতের সমাবেশের সুবিধার্থে আজ (গতকাল) খেলা স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জবি শিবিরের দায়িত্বশীলদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে জামায়াতের সমাবেশের পক্ষে সাফাই গেয়ে পোস্ট করে আবারও প্রমাণ করেছেন, তাঁদের কাছে জবিয়ানদের স্বার্থ নয়, জামায়াতের রাজনৈতিক স্বার্থই সবার আগে।

মিথিল আরও লিখেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ, খেলা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার সবকিছুর ঊর্ধ্বে একটি দলের কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে নির্লজ্জভাবে। শিবির যে গর্ব করে বারবার মিথ্যাচার করে আমরা জামায়াতের লেজুড়বৃত্তিক না, তা–ও আজ মিথ্যাই প্রমাণিত হলো।’

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সোহান প্রামাণিক তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের আন্তবিভাগ খেলা স্থগিত রেখে দলীয় প্রোগ্রামের জন্য অনুমতি দিয়েছে জবি প্রশাসন। জকসু চাইলাম দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলবে। এখন দেখি জকসু প্রতিনিধিরা এবং প্রশাসন সবগুলো নির্দিষ্ট দলের প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত।’

শিক্ষার্থীদের সমালোচনার পর রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুমতি চায় জামায়াতে ইসলামী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমতি দেয়। অনুমতিপত্রে তিনটি শর্ত জুড়ে দেয় প্রশাসন। শর্তগুলো হলো আয়োজক কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে আয়োজন করবে। অনুষ্ঠান শেষে পূর্বের ন্যায় ধূপখোলা মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মাঠ লেভেলিং কাজ সম্পন্ন করতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আয়োজক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মাঠ ভাড়া বাবদ ১৫ হাজার টাকা অফেরতযোগ্য চেক (ট্রেজারার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর) প্রদান করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক বলেন, ‘আজ (রোববার) সকালে তারা অনুমতি নেওয়ার জন্য এসেছিল। এটা আমার এখতিয়ারে নেই, রেজিস্ট্রার অফিসে পাঠানো হয়েছে। রেজিস্ট্রার অফিস থেকেই সমাবেশ করার জন্য তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’