
এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শুনানিতে প্রিন্স মামুনের পক্ষে আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় ও আবদুল্লাহ আল মামুন জামিন আবেদন করেন। তাঁরা আদালতে বলেন, যৌতুক দাবির অভিযোগের পক্ষে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। ঘটনার সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। প্রিন্স মামুন তাঁর স্ত্রীকে আবার সংসারে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী সরকার সাব্বির হোসাইন (ফয়সাল) জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই প্রিন্স মামুন একাধিকবার টাকা ধার নিয়েছেন, যৌতুক দাবি করেছেন এবং সেই দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করেছেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই গভীর রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগের ঘটনায় প্রিন্স মামুনের স্ত্রী একটি মামলা করেন। এর আগে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি ও মারধরের অভিযোগে তিনি আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় ২৪ জুলাই আদালত প্রিন্স মামুনের জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠান। পরে আত্মহত্যার চেষ্টার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে গতকাল বুধবার আদালত তা মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রিন্স মামুনের স্ত্রী একজন ফ্যাশন মডেল। প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কলহ চলছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, মামুন পরকীয়ায় জড়িত ও মাদকাসক্ত। এসব বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি স্ত্রীকে মারধর করতেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই দোকান করার জন্য মামুন এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।
ঘটনার রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রিন্স মামুন স্ত্রীকে তাঁর বাবার বাড়ি থেকে এক কোটি টাকা এনে দিতে বলেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে মারধর করেন এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে তাঁর স্ত্রীর বাঁ চোখের নিচে রক্তাক্ত জখম, ডান কানে আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।