‘নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ’ শীর্ষক এক সংলাপে কথা বলেন মাহদী আমিন। রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে, ১৬ মার্চ ২০২৬
‘নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ’ শীর্ষক এক সংলাপে কথা বলেন মাহদী আমিন। রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে, ১৬ মার্চ ২০২৬

সরকারি স্কুলে লটারি নয় ভর্তি পরীক্ষার চিন্তা: মাহদী আমিন

সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে বর্তমানে চালু থাকা লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যমান লটারি পদ্ধতি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অনেকেই এটিকে অস্বচ্ছ বলে মনে করেন।

‘নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ’ শীর্ষক এক সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মাহদী আমিন। আজ সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এ সংলাপ আয়োজন করে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ’।

লটারির মাধ্যমে ভর্তিপ্রক্রিয়াকে সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে অনেক অভিভাবক এটিকে ‘ব্ল্যাক বক্স’ পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন বলে মন্তব্য করেন মাহদী আমিন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘কে আবেদন করছেন, কীভাবে নির্বাচন হচ্ছে—এসব বিষয়ে অনেকের কাছেই স্পষ্ট ধারণা থাকে না।’

পরীক্ষাভিত্তিক ভর্তিপদ্ধতি চালু হলে শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা দুটিই বাড়তে পারে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, লটারি পদ্ধতির বদলে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হলে মেধার মূল্যায়নের একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে।

শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য কমানো এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসা—এ তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারি ভালো স্কুলে সীমিত আসনের কারণে ভর্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।

তবে ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয় জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের মতামত নিয়ে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিক্ষা খাতে সংস্কারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভর্তি নীতিমালার পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে পাঠ্যক্রম সংস্কার, কারিগরি শিক্ষায় মনোযোগ বাড়ানো, শিক্ষায় বৈষম্য দূর, শিক্ষার মাধ্যমে প্রাযুক্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হবে বলেও জানান।