
আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘জাতীয় কবিতা উৎসব ২০২৬’। ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় উৎসবের উদ্বোধন করা হবে। প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার চত্বরে আয়োজন করা হলেও এবার বিশেষ কারণে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ উৎসবের আয়োজন করা হবে। এবারের কবিতা উৎসবের প্রতিপাদ্য ‘সংস্কৃতি-বিরোধী আস্ফালন রুখে দিবে কবিতা’।
আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হল মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান আয়োজকেরা। জাতীয় কবিতা পরিষদের সহসভাপতি এ বি এম সোহেল রশিদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান এবং সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন।
সূচনা বক্তব্যে কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে, অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে, শোষণের বিরুদ্ধে, অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কবিতা সব সময় সোচ্চার থাকবে। সেই স্লোগানটিই এবার আপনারা লক্ষ করছেন। উগ্র মৌলবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য সারা পৃথিবীতে কবিতা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। আমাদের কথা কোনো দিন শেষ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না একটি মানুষও তার অধিকার বঞ্চিত থাকে।
কবিতা উৎসবের এবারের আসরটি ৩৮তম। দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নেবেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। ১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে ফুল দিয়ে কবিরা শহীদ মিনারের উদ্দেশে পদযাত্রা করবেন।
লিখিত বক্তব্যে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘গত ১৭ মাসে জুলাই অভ্যুত্থানের আড়ালে লুকিয়ে থাকা একাত্তরের পরাজিত খুনি, ধর্ষক, অগ্নিসংযোগকারী ও অন্ধকারের অশুভ শক্তি এবং জুলাইয়ের পতিত ফ্যাসিস্টদের দোসররা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সারা দেশে তারা মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে এক ভয়াবহ ভীতির সংস্কৃতি চালু করেছে।’
মোহন রায়হান আরও বলেন, তারা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, সংবাদপত্রসহ গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে এই দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের কৃষ্ণগহ্বরে ঠেলে দিতে চায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবিতা পরিষদের উপদেষ্টা মতিন বৈরাগী, জাতীয় কবিতা উৎসব ২০২৬–এর সমন্বয়ক মানব সুরত, কবি গোলাম শফিক, কবি শ্যামল জাকারিয়া এবং কবি নুরুন নবী সোহেল।
উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য দেশি–বিদেশি কবিদের নিবন্ধন চলছে। এখন পর্যন্ত ৩৮৭ জন কবি নিবন্ধন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্রে জাতীয় কবিতা উৎসবের দপ্তরে সশরীর এবং অনলাইনে এই নিবন্ধন করা যাবে।
উৎসবে প্রতিদিন সেমিনার, কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনের আয়োজন থাকবে। বাংলাদেশ ছাড়াও ফিলিস্তিন, জাপান, ইরান এবং নেপাল থেকে কবিরা উৎসবে অংশ নেবেন বলে জানান আয়োজকেরা।