বাংলাদেশ পুলিশ
বাংলাদেশ পুলিশ

১০০ দিনে ৬০৫ খুন: পরিসংখ্যান উপস্থাপনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন পুলিশের

সরকারের ১০০ দিনে ৬০৫ খুনের যে পরিসংখ্যান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের বরাতে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সংসদে আলোচনায়ও গড়িয়েছে, সেই প্রতিবেদনে পরিসংখ্যান উপস্থাপনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পুলিশ।

টিআইবির প্রতিবেদন ধরে সংবাদ প্রকাশের পর আজ সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রকাশিত তথ্যের বিশ্লেষণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট ও শ্রেণিভিত্তিক তথ্য উপেক্ষিত হয়েছে।

বিএনপি সরকারের ১০০ দিন নিয়ে গতকাল টিআইবি একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, এই সময়কালে দেশে ২৯৪টি ছিনতাই, ৬০৫টি খুন, ১৯৬টি অপহরণ এবং ৩,৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

এই প্রতিবেদন ধরে সংবাদমাধ্যমগুলোতে সংবাদ প্রকাশ হয়। আজ বিকেলে সংসদ অধিবেশনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অবশ্য সকালেই টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো আছে।

এরপর বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলা হয়, প্রকাশিত প্রতিবেদনে পূর্ববর্তী সময়ের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ অনুপস্থিত ছিল। একই সময়ে অতীতে কতটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, সে তথ্য ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করা পদ্ধতিগতভাবে অসম্পূর্ণ।

এ বছরের মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাসে দেশে মোট ৬০৫টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, সেই তথ্য ঠিক বলেই জানাচ্ছে পুলিশ। তবে প্রেক্ষাপট উল্লেখ না করে শুধু সংখ্যাগত তথ্য উপস্থাপনের কারণে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা স্বাভাবিক প্রবণতার তুলনায় অস্বাভাবিক নয়। পুলিশের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশে বছরে হত্যা মামলার সংখ্যা সাধারণত ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০-এর মধ্যে ওঠানামা করেছে। সেই হিসাবে দুই মাসের ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডকে বার্ষিক হারে রূপান্তর করলে সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৬৩০, যা গত এক দশকের গড় প্রবণতার মধ্যেই রয়েছে।

পুলিশ আরও বলছে, দেশের প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার অনুপাতে গত দুই মাসে প্রতি লাখ জনসংখ্যায় হত্যার হার দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৩৪, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উচ্চ হার হিসেবে বিবেচিত হয় না।

হত্যা মামলার শ্রেণি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর মধ্যে ৩৩৬টি বা ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ ঘটেছে পূর্বশত্রুতাজনিত কারণে। পারিবারিক কলহের জেরে হয়েছে ১৪৬টি বা ২৪ দশমিক ১ শতাংশ হত্যা। এ ছাড়া সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক বিরোধে ৬৯টি, আকস্মিক আঘাতে ১৯টি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৯টি, প্রেম বা পরকীয়াজনিত কারণে ৫টি এবং ছিনতাইকারীদের হাতে ৬টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। দাঙ্গা, দস্যুতা, অপহরণ ও অন্যান্য কারণে ১৫টি এবং রাজনৈতিক কারণে ৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

এসব তথ্য দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, দেখা যায় যে অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে সংঘটিত হত্যার সংখ্যা মোট ঘটনার মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ সক্রিয়ভাবে মামলা নথিভুক্ত করছে দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতিফলন; দুর্বলতার নির্দেশক নয়।