মিনহাজুল ইসলাম রোজান
মিনহাজুল ইসলাম রোজান

এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছেলের ডায়াবেটিস, জানতেন না মা–বাবা, হাসপাতালও পরীক্ষা করায়নি

পরীক্ষা শুরুর আগে মিনহাজুল ইসলাম রোজান মা ফাহমিদা আক্তারকে বলতেন, ‘যদি জিপিএ-৫ না পাই।’ মা বলতেন, ‘না পেলে কিছু হবে না।’ তখন মিনহাজুল রাগ করে বলতেন, ‘মা তুমি কিছু বুঝতেই পারছো না, জিপিএ-৫ না পেলে ভালো জায়গায় ভর্তি হওয়া যাবে না।’

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। ১৫ আগস্ট ব্যবহারিক পরীক্ষার শেষ দিনে মিনহাজুল ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। রাজধানীর একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

ছেলের পরিচয়ে পরিচিত হয়েছি, কিন্তু এভাবে তো পরিচিত হতে চাইনি
মা ফাহমিদা আক্তার

পরীক্ষার চাপের পাশাপাশি মিনহাজুলের ডায়াবেটিস আছে, তা জানতেন না বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ ও মা ফাহমিদা আক্তার। ৬ আগস্ট ছেলে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে ছেলে ‘পরীক্ষা নিয়ে চিন্তা করছেন’, ‘প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে’, ‘মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে’ এমন কথা বলে চিকিৎসকেরাও তেমন একটা গুরুত্ব দেননি—এমটাই বলছে পরিবার।

পরিবার বলছে, কোথাও ডায়াবেটিসসহ অন্য কোনো পরীক্ষাও করা হয়নি। স্যালাইন, ঘুমের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে। এতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। ১৩ আগস্ট রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মিনহাজুল যখন লাইফ সাপোর্টে তখন তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে ৩৮ মিলেমোল/লিটারে পৌঁছেছিল। সেদিনই মা–বাবা প্রথম জানতে পারেন ছেলের আগে থেকেই ডায়াবেটিস ছিল।

মিনহাজুল ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন মিনহাজুল। তাঁর বোন সাফিয়া জাহান নবম শ্রেণি ও ভাই আরশাদুল ইসলাম প্লে গ্রুপে পড়ছে।

ফাহমিদা আক্তার। ৬ আগস্ট ছেলে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে ছেলে ‘পরীক্ষা নিয়ে চিন্তা করছেন’, ‘প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে’, ‘মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে’ এমন কথা বলে চিকিৎসকেরাও তেমন একটা গুরুত্ব দেননি—এমটাই বলছে পরিবার। কোথাও ডায়াবেটিসসহ অন্য কোনো পরীক্ষাও করা হয়নি। স্যালাইন, ঘুমের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে। এতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়।

মিনহাজুলের বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ১ সেপ্টেম্বর মিরপুরে তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ে বসে কথা হয়। এ সময় তাঁর স্ত্রী ফাহমিদা আক্তারও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানান, ছোটবেলা থেকেই মিনহাজুল ভালো ছাত্র ছিল। তাই পড়াশোনার জন্য বা জিপিএ-৫ পেতেই হবে—এমন চাপ দিতে হয়নি কখনো। কিন্তু নিজে নিজেই চ্যালেঞ্জ নিত ছেলে। আর ছেলের যে ডায়াবেটিস আছে, তা–ও তাঁরা জানতেন না। বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ছেলেকে নেওয়া হলেও কেউ ডায়াবেটিস বা অন্য পরীক্ষা করেনি। পরীক্ষাভীতির কথা শুনেই ব্যবস্থাপত্র লিখে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। এই করতে করতে ছেলের প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করতেই দেরি হয়ে গেছে। তারপর তো ছেলেটা চোখের সামনে মারাই গেল।

মা–বাবা, ভাইবোনের সঙ্গে মিনহাজুল

মায়ের আক্ষেপ

এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল মিনহাজুল। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্যাপ্টেন ছিলেন। বিএনসিসি অ্যাডমিন, প্যারেডের সেন্ট্রাল কমান্ডার, এক্সিকিউটিভ প্যানেল ফটোগ্রাফারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত ১৩ জুলাই পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার পর বাসায় এসে বলেছিলেন পরীক্ষা মনমতো হয়নি। এর আগের পরীক্ষাগুলোর পর বাসায় এসে সেই প্রশ্ন নিয়েই বসে থাকতেন। পরের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দেরি করে ফেলতেন। উচ্চতর গণিত পরীক্ষার দিন হলে সিট পরিবর্তনসংক্রান্ত কারণে বিরক্ত ছিলেন। পরে তো ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতেই পারেননি।

মা ফাহমিদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছেলে নিজে নিজে চ্যালেঞ্জ নিত, কলেজ-বাসার বিভিন্ন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিত। শরীর খারাপ হওয়ার পরও জিপিএ-৫ না পেলে কী হবে, সে কথা বলত। একপর্যায়ে বাসায় যে শিক্ষক ছেলেকে পড়াতেন তিনিও জানতে চান, রেজাল্ট খারাপ হলে আমরা বকা দেব কি না। না বলার পর তিনিও অতিরিক্ত চিন্তা করছে বলে ছেলেকে বকা দেন।’ ফাহমিদা আক্তারের আক্ষেপ, হাসপাতালে নেওয়া হলেও অনেক দেরিতে ডায়াবেটিসের বিষয়টি ধরা পড়ল। আগেই যদি এ নিয়ে কিছু পরীক্ষা করাতেন চিকিৎসকেরা।

মিনহাজুল ইসলাম অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসার রিপোর্টগুলো দেখে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়াবেটিস অ্যান্ড অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগবিশেষজ্ঞ মোহনা জামান প্রথম আলোকে বলেন, পরীক্ষার সময় তীব্র মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণে শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন ‘স্ট্রেস হরমোন’ বেড়ে যায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা আরও বাড়িয়ে পরিস্থিতিকে দ্রুত জটিল করে তুলতে পারে। ইনসুলিনের ঘাটতি তীব্র হলে শরীর শক্তির জন্য ফ্যাট ভাঙতে শুরু করে এবং অতিরিক্ত কিটোন বা অ্যাসিড তৈরি হয়। তখন দেখা দেয় ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস-ডায়াবেটিসের একটি অত্যন্ত গুরুতর জটিলতা। এর ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে গিয়ে মারাত্মক পানিশূন্যতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি আরও গুরুতর হলে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হওয়া, কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়।

ফাহমিদা আক্তারের আক্ষেপ, হাসপাতালে নেওয়া হলেও অনেক দেরিতে ডায়াবেটিসের বিষয়টি ধরা পড়ল। আগেই যদি এ নিয়ে কিছু পরীক্ষা করাতেন চিকিৎসকেরা।

দেশে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে অসংক্রামক রোগ বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্থূলতা, রক্তে চর্বির আধিক্যের হার ও এর প্রকৃত কারণ খুঁজে দেখার উদ্দেশ্যে ২০২১ সালে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ রিসার্চ একটি গবেষণা করে। ৮ বিভাগের ১০ জেলায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে অসংক্রামক রোগ’ শিরোনামের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২ হাজার ৪৬৮ জন। সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ ছিল ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের, ৫৫ শতাংশ। ওই গবেষণায় ২০ বছরের নিচে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪ জনের বেশি ছেলেমেয়ের ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল কর্মসূচির অর্থায়নে ওই গবেষণায় উঠে আসে, নতুন শনাক্ত হওয়া ৬১ শতাংশের ডায়াবেটিসের কোনো উপসর্গ ছিল না।

ছেলেকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর মধ্যে ২৩ আগস্ট সকালে চিকিৎসক ফোন দিয়ে বলেন, বিদেশ নেওয়া যাবে না, ছেলের অবস্থা খারাপ। দোয়া পড়তে বলেন। চেয়ে চেয়ে দেখলাম ছেলেটা মারা গেল।
সাজ্জাদুল মিরাজ

ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগবিশেষজ্ঞ মোহনা জামান প্রথম আলোকে বলেন, ডায়াবেটিসের রোগী সব সময় অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা ওজন কমে যাওয়ার মতো পরিচিত লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন না। ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস হলে শ্বাসকষ্ট, পেটব্যথা, বারবার বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঝিমুনি বা অসংলগ্ন আচরণের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব ক্ষেত্রে শুরুতেই ডায়াবেটিসের বিষয়টি বিবেচনায় না এলে রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে এবং পরিস্থিতি দ্রুত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। প্রচলিত ধারণা ডায়াবেটিস শুধু বড়দের রোগ, কিন্তু বর্তমানে অল্প বয়সীদের মধ্যে ডায়াবেটিস হওয়ার প্রবণতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই পরিবারের সদস্যদেরও সন্তানদের এ ধরনের শারীরিক পরিবর্তন বা অসুস্থতাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি। ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস নিয়ে রোগী হাসপাতালে এলে দ্রুত শিরায় স্যালাইন, ইনসুলিন ও প্রয়োজন অনুযায়ী ইলেকট্রোলাইট দিয়ে নিবিড় চিকিৎসা শুরু করতে হয়।

ডায়াবেটিসের রোগী সব সময় অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা ওজন কমে যাওয়ার মতো পরিচিত লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন না। ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস হলে শ্বাসকষ্ট, পেটব্যথা, বারবার বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঝিমুনি বা অসংলগ্ন আচরণের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

৬ আগস্ট থেকে ভোগান্তির শুরু

মিনহাজুলের বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ প্রথম আলোকে বলেন, ৬ আগস্ট ছেলে খারাপ ও দুর্বল লাগার কথা জানান। প্রথমে ভাবেন, দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে পরীক্ষার জন্য রাত জাগতে হয়েছে তাই হয়তো এমন হচ্ছে। শুরুতে মিরপুর ১১–এর একটি হাসপাতালের চিকিৎসককে জানানো হলে কিছু চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেন। ৭ আগস্ট আবার শরীর দুর্বল ও বুকে ব্যথার কথা জানান ছেলে। পরে মিরপুরের আরেকটি হাসপাতালে নেওয়া হলে ছেলেকে বাসায় নিয়ে গল্প করতে বলেন, মনোচিকিৎসককে দেখানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু তখনো ছেলের শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ। ১২ আগস্ট ছেলের পুরো শরীর চেকআপ করাতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ছেলে সকালে নুডলস খেয়ে ফেলেছিলেন বলে তা আর সম্ভব হয়নি। সেদিন রসায়ন ব্যবহারিক পরীক্ষা ছিল। কলেজে যাওয়ার সময়ও মিনহাজুল অসুস্থ ছিলেন। তিনতলায় অনেক কষ্ট করে তোলা হয়। কিন্তু পরে এক শিক্ষক ফোন করে শরীর খারাপের কথা জানান। সেদিন ছেলেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর স্যালাইন ও ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়। চিকিৎসক জানান, প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে, দুদিন ঘুমালেই ঠিক হয়ে যাবে। পরে ১৩ আগস্ট অবস্থা খারাপ হলে দ্রুত আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে আরেকটি হাসপাতালে নেওয়া হয় ১৭ আগস্ট। সেখানে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে মাথার খুলি খুলে ফ্রিজে রাখা হয়। ২২ আগস্ট চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার অনুমতি দেন চিকিৎসকেরা। টাকারও ব্যবস্থা করা হয়।

সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, ‘ছেলেকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর মধ্যে ২৩ আগস্ট সকালে চিকিৎসক ফোন দিয়ে বলেন, বিদেশ নেওয়া যাবে না, ছেলের অবস্থা খারাপ। দোয়া পড়তে বলেন। চেয়ে চেয়ে দেখলাম ছেলেটা মারা গেল। ফ্রিজে রাখা ছেলের মাথার খুলিটা ছেলের লাশের সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই হাসপাতালেই খরচ হয়ে গেছে ২২ লাখ টাকা, সব মিলে ছেলের চিকিৎসায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ১৮ আগস্ট ছেলেসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার টিকিটও কাটা ছিল।’

সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ে মিনহাজুল কখনোই পরিচিত হতে চায়নি বলে সব সময় নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছে। নিজস্ব একটি পরিচিতি গড়ে তুলতে চেয়েছে। রাজনৈতিক কারণে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও পুলিশি হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। সেভাবে ছেলেমেয়েদের সময় দিতে পারেননি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছেলে মেয়েদের সময় দেওয়া শুরু করেছিলেন।

মা ফাহমিদা আক্তার বললেন, ‘এখন ছেলের পরিচয়ে পরিচিত হয়েছি, কিন্তু এভাবে তো পরিচিত হতে চাইনি।’