ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে চট্টগ্রামে উদযাপিত ‘সিলন আমার শহর’

‘সিলন আমার শহর-চট্টগ্রাম’ মেগা ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন সাবিলা নূর, সামিরা খান মাহি, এসপি ক্রিয়েশন, রেজভি আহমেদ, বেংগলি বইন, সম্পদ, জিসানসহ দেশের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা
ছবি: সিলন টির সৌজন্যে

দেশের প্রায় প্রতিটি শহরের রয়েছে নিজস্ব পরিচয়, ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও খাবার। যা শহরটির সঙ্গে মানুষের অনন্য আবেগের সম্পর্ক গড়ে দেয়। দেশের বিভিন্ন শহরের  নিজস্ব গল্পকে নতুনভাবে আবিষ্কার এবং সারা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরার ভাবনা থেকেই সিলন টি শুরু করে ‘সিলন আমার শহর’ ক্যাম্পেইন। এই যাত্রার প্রথম শহর হিসেবে বেছে নেওয়া হয় চট্টগ্রামকে।

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের নেভি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘সিলন আমার শহর–চট্টগ্রাম’ শীর্ষক মেগা ইভেন্টে তুলে ধরা হয় বন্দরনগরীর চেনা–অচেনা নানা গল্প।
ক্যাম্পেইনের শুরু থেকেই চট্টগ্রামের মানুষকে আয়োজনের সক্রিয় অংশ করে তোলার উদ্যোগ নেয় সিলন টি। চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে বাজারে আনা হয় বিশেষ নকশার সিলন টি প্যাকেজিং। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও চলে শহরকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন।

‘আমার শহর’ ডিজিটাল কনটেস্টের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মানুষকে তাদের প্রিয় শহর ঘিরে ব্যক্তিগত স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও গল্প শেয়ার করার আহ্বান জানানো হয়। বিপুলসংখ্যক অংশগ্রহণকারীর মধ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে নির্বাচিত করা হয় ‘সাপ্তাহিক বিজয়ী’। তাঁদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীদের নেভি কনভেনশন সেন্টারের মেগা ইভেন্টে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।

‘সিলন আমার শহর–চট্টগ্রাম’–এর পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল চট্টগ্রামকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ। যেখানে উঠে আসে পুরোনো চট্টগ্রামের ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্য থেকে শুরু করে বন্দর ও রেলওয়ের গল্প, শহরের সংস্কৃতি, সংগীত, জীবনযাপন এবং বৈচিত্র্যময় খাবার। যা বিভিন্ন অভিজ্ঞতামূলক উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

চট্টগ্রামের নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতিকেও বিশেষভাবে উদ্যাপন করা হয়। মেজবান থেকে ‘বেলা বিস্কুট’, চায়ের আড্ডা থেকে স্থানীয় স্বাদের নানা অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে উঠে আসে চট্টগ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সংস্কৃতির পরিচিত রূপ। পাশাপাশি ছিল চট্টগ্রামের সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

পঞ্চাশের বেশি অভিনয়শিল্পী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের অংশগ্রহণে জমজমাট হয়ে উঠেছিল ‘সিলন আমার শহর-চট্টগ্রাম’ আয়োজনটি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাবিলা নূর, সামিরা খান মাহি, এসপি ক্রিয়েশন, রেজভি আহমেদ, বেংগলি বইন, সম্পদ, জিসানসহ অনেকেই। যাঁরা নিজেদের কনটেন্ট ও উপস্থিতির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন চট্টগ্রামের ভিন্ন ভিন্ন গল্প।

অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘সিলন আমার শহর বিশেষ ব্যক্তিত্ব সম্মাননা’। নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পরিচয়, সংস্কৃতি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন ব্যক্তিত্বকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আবুল মোমেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ দেলোয়ার হোসেন মজুমদার এবং লেখক ও গবেষক হারুন রশিদ।

তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন আবুল খায়ের গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল্লাহ চৌধুরী। এ ছাড়া সাপ্তাহিক বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন আবুল খায়ের গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক ও হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং মোহাম্মদ ইউসুফ এবং কনজ্যুমার গুডস ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক ও হেড অব সাপ্লাই চেইন মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ আহমেদ। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম ছিল ‘সিলন আমার শহর’-এর প্রথম গন্তব্য। মেগা ইভেন্টের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম অধ্যায়ের উদযাপন সম্পন্ন হলেও ‘আমার শহর’-এর যাত্রা এখানেই শেষ হচ্ছে না। চট্টগ্রাম তার গল্প বলেছে। এবার ‘সিলন আমার শহর’-এর পরবর্তী গন্তব্য কোন শহর, সেটাই জানার অপেক্ষা!