
কারাবন্দী জীবনেও আনন্দের উপলক্ষ হয়ে আসে ঈদ। এই দিনে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয় কারাগারগুলোতে। স্বজনদের রান্না করে আনা খাবার খাওয়ার সুযোগও পাবেন তাঁরা। ঈদ জামাতও হবে কারাগারে। বন্দীদের বিনোদনের জন্য সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার আয়োজনও থাকছে। স্বজনদের সঙ্গে পাঁচ মিনিট মুঠোফোনে কথা বলার সুযোগও পাবেন বন্দীরা।
২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকেই গ্রেপ্তার হয়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে আছেন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো তাঁদের ঈদুল ফিতরের দিন কাটবে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে।
আগামী শনিবার দেশে ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে। কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের দিন সাধারণ বন্দীদের মতোই কারাগারে থাকা ভিআইপিসহ (বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) ডিভিশন পাওয়া বন্দীদের একই ধরনের খাবার দেওয়া হবে। এবার ঈদের দিন সকালে সব বন্দীকে দেওয়া হবে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি। দুপুরে থাকবে পোলাও, গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, সালাদ, মিষ্টি ও পান–সুপারি। মুসলমান ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য থাকবে খাসির মাংস। রাতে দেওয়া হবে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা। উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি বন্দীদের জন্য তাঁদের স্বজনদের আনা খাবারও তাঁদের খেতে দেওয়া হয়।
ঈদের দিন সকালে সব বন্দীকে দেওয়া হবে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি। দুপুরে থাকবে পোলাও, মাংস, মুরগির রোস্ট, সালাদ, মিষ্টি ও পান-সুপারি। রাতে দেওয়া হবে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা। বন্দীদের জন্য তাঁদের স্বজনদের আনা খাবারও তাঁদের খেতে দেওয়া হয়।
কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা মামলায় এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ২১৫ জন কারাগারে আছেন। তাঁদের মধ্যে ডিভিশন পেয়েছেন ১৮৩ জন। তাঁদের মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ৩৭ জন, সাবেক সংসদ সদস্য ৪৮ জন এবং অন্যান্য পেশার ৯৮ জন। ডিভিশন না পেয়ে ভিআইপি হিসেবে কারাগারে আছেন ৩২ জন।
কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সারা বছর সাধারণ বন্দীদের সকালে দেওয়া হয় হালুয়া, রুটি ও ডিম। দুপুরের খাবারের তালিকায় থাকে ভাত, ডাল, সবজি। রাতে খাবার দেওয়া হয় ভাত, ডাল, মাছ বা গরুর মাংস। আর ডিভিশন পাওয়া বন্দীদের খাবার তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা রান্নার ব্যবস্থা করা হয়।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ ১৭ মার্চ প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের দিন কারাগারগুলোর বন্দীদের জন্য ঈদের নামাজের জামাত হয়। উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের জন্য এবার বন্দীদের জন্য মাথাপিছু আড়াই শ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন বন্দীদের স্বজনেরা খাবার দিতে পারবেন। ঈদের পরদিন যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে কারাগারের ভেতরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারবে কারাগারগুলো।
১৬ মার্চ সারা দেশের ৭৪ কারাগারে বন্দী ছিলেন ৮০ হাজার। এর মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীর সংখ্যা সাড়ে ৯ হাজার।
১৭ মার্চ যোগাযোগ করা হলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ফারুক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কারাগারের বাইরে থাকা কারা কর্মচারীদের মসজিদের একজন ইমাম কারাগারের ভেতরে ঈদের দিন সকালে বন্দীদের ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন।
ফারুক আহমেদ আরও জানান, নামাজের পর কারাগারের ভেতরে বন্দীদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বন্দীদের মধ্যে শিল্পী রয়েছেন, তাঁরা এই অনুষ্ঠানে গান গাইবেন। ঈদের পরদিন বন্দীদের মধ্য থেকে বাছাই করে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে।
বন্দীদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে ঈদে। প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজনও থাকছে। ঈদের দিন থেকে তিন দিনের মধ্যে বন্দীরা তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে একবার পাঁচ মিনিট মুঠোফোনে কথা বলতে পারবেন। এই তিন দিনের মধ্যে স্বজনেরা একবার বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।
ঈদের দিন থেকে তিন দিনের মধ্যে বন্দীরা তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে একবার পাঁচ মিনিট মুঠোফোনে কথা বলতে পারবেন। এই তিন দিনের মধ্যে স্বজনেরা একবার বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। সাধারণত ১৫ দিন পর বন্দীরা কারাগারে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।
ফারুক আহমেদ জানান, বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের জন্যও আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগারের বাইরে তাঁদের চকলেট ও জুস দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে।