আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

জবানবন্দিতে জুলাই শহীদের ভাই

‘বিদ্যুৎ–ইন্টারনেট না থাকায় বাইরে বেরিয়ে গুলিবিদ্ধ হন মামুন’

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট না থাকায় বাসার বাইরে বের হয়েছিলেন মামুন মিয়া। তখন গুলিবিদ্ধ হন মামুন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন তিনি মারা যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তাঁর ভাই মো. রুবেল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ রোববার সাক্ষী রুবেল এমন জবানবন্দি দেন।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষী রুবেল।

জবানবন্দিতে রুবেল বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাত ২টার দিকে প্রতিবেশী (সম্পর্কে ভাগনে) নিরবের মাধ্যমে জানতে পারেন, তাঁর ভাই মামুন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নিরব তাঁকে বলেন, ‘মামা, রক্ত লাগবে। দ্রুত ব্যবস্থা করেন।’ তাঁর ভাই নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে আছে বলেও জানান নিরব। সে সময় তিনি গাজীপুরে পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সে দিন ভোর ৫টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, তাঁর ভাই অক্সিজেন লাগানো অবস্থায় আছেন।

জবানবন্দিতে রুবেল বলেন, তাঁর ভাইয়ের মাথার পেছন দিক থেকে গুলি লেগে বাঁ চোখের ওপর দিয়ে বের হয়ে যায়। সেখানে তাঁর ভাইয়ের অস্ত্রোপচার হয়। পরে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। ১৯ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁর ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামুন সরকারি তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি রামপুরার ওয়াপদা রোডে ওমর আলী লেনে থাকতেন।

রুবেল বলেন, মামুনের রুমমেট পারভেজের কাছ থেকে জানতে পারেন ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট না থাকায় মামুন বাসার বাইরে বেরিয়েছিলেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, রামপুরা ওয়াপদা রোডের মাথায় অনেক লোক ছিলেন। তখন তিন–চারটি গাড়ি সাইরেন বাজিয়ে আসে। তখন সবাই এদিক–সেদিক ছুটোছুটি করছিল। এ সময় তাঁর ভাই সামনে ছিলেন। তখন বিজিবি এবং পুলিশ গুলি ছুড়ছিল। সেখানে তাঁর ভাইয়ের মাথায় গুলি লাগে।

ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য বিজিবির রেদোয়ান ও রাফাত এবং পুলিশের রাশেদুল ও মশিউর জড়িত দাবি করে তাঁদের সবার বিচার দাবি করেন রুবেল।

এ মামলার চার আসামির মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম। তাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

অপর দুই আসামি পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান পলাতক।