তথ্য অধিকার আইনের কার্যকারিতা বাড়াতে ছয়টি জরুরি সংশোধনের দাবি জানিয়েছে তথ্য অধিকার ফোরাম। সংগঠনটি বলছে, আইন প্রণয়নের দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও জনসচেতনতার অভাব এবং তথ্যপ্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে নাগরিকেরা কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না।
আজ রোববার তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আইনটি সম্পর্কে জনসচেতনতার অভাব এবং তথ্যপ্রাপ্তির বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে আইনটির ব্যবহার বাড়ানো ও কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন করতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা জরুরি। এ কারণে তথ্য অধিকার আইনের বিভিন্ন ধারার ওপর ৩৭টি সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করেছে তারা, যা গত বছরের ৬ মার্চ প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফোরাম জানতে পেরেছে, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সংশোধনের লক্ষ্যে উপদেষ্টা পরিষদ একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে। এ পটভূমিতে ছয়টি ‘অতি জরুরি’ সংশোধনী প্রস্তাব অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তথ্য উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
ফোরামের ছয়টি সংশোধনী প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে তথ্যের সংজ্ঞা বিস্তৃত করা। ফোরামের মতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের ভূমিকা বোঝার জন্য নথির ‘নোট শিট’ গুরুত্বপূর্ণ। তাই আইনের ২(চ) উপধারায় তথ্যের সংজ্ঞায় ‘নোট শিট’ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, কর্তৃপক্ষের আওতা বাড়ানোর জন্য ২(খ)(ই) উপধারায় সংবিধিবদ্ধ সংস্থার পাশাপাশি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার সংস্থাকেও স্পষ্টভাবে যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ২(খ)(উ) উপধারায় ‘সরকারের পক্ষে অথবা সরকার বা সরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহিত সম্পাদিত চুক্তি বা উল্লিখিত কোনো সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স, পারমিট, অনুদান, বরাদ্দ, সম্মতি বা অনুমোদনের শর্তমোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল’—এ অংশে সংশোধনী আনার কথা বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে তথ্য কমিশন অংশে ১১(১) ধারায় তথ্য কমিশনের নামের সঙ্গে ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে তথ্য অধিকার ফোরাম।
প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত ১৫ ধারায় ‘প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনারদের পদ শূন্য হইলে সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে প্রধান তথ্য কমিশনার বা ক্ষেত্রমতে, তথ্য কমিশনার নিয়োগ’—এমন একটি নতুন উপধারা সংযোজন করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৭ ধারা সংশোধন করে প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি যথাক্রমে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের অনুরূপ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সব শেষে জরিমানার বিষয়ে ২৭ ধারা সংশোধনের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়াও আপিল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় এনে জরিমানার বিধান কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছে ফোরাম।