আব্দুস সালাম মুর্শেদী
আব্দুস সালাম মুর্শেদী

সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগে সালাম মুর্শেদীর বিচার শুরু

রাজধানীর গুলশান–২ নম্বর এলাকার ২৭ কাঠা সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হলো। আজ সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৯ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ সকালে কারাগারে থাকা সালাম মুর্শেদীকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা অন্য আসামিরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বোরহান উদ্দীন, শাহীনুর ইসলাম ও খাদেমুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম ও প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম, রাজউকের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ, সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান ও তাঁর ভাই মীর মো. নুরুল আফছার, রাজউকের সাবেক সদস্য লে.কর্নেল (অব.) এম নুরুল হক, সাবেক পরিচালক (এস্টেট) আবদুর রহমান ভূঁঞা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক শাখা সহকারী মো. মাহবুবুল হক এবং লালমাটিয়ার ইফফাত হক ও তাঁর স্বামী মোহাম্মদ আব্দুল মঈন।

পরিত্যক্ত সম্পত্তির ‘খ’ তালিকাভুক্ত এই বাড়ি দখলে রাখার অভিযোগ তুলে সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক। সেই আবেদনে দুদক, রাজউক ও গণপূর্ত বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সেখানে বিবাদী করা হয়।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ১ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল দিয়ে বাড়িসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র হলফনামা আকারে দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

এরপর রাজউক নথি দাখিল করে। পরে বাড়ি নিয়ে অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে দুদক রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক ইয়াছির আরাফাত। তখন এ মামলা থেকে সালাম মুর্শেদীকে বাদ দেওয়া হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর তাঁকে অভিযুক্ত করে মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক মো. আনোয়ারুল হক।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত গেজেটে ‘খ’ তালিকাভুক্ত গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭ নম্বর, হোল্ডিং নম্বর-২৯, রোড নম্বর-১০৪ প্লটটি (২৭ কাঠা) পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত। কিন্তু আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে সে তালিকা থেকে প্লট অবমুক্তকরণ না করেই ‘জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ডপত্র’ তৈরি করেন। যা পরে হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদন করার মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করে।

গত বছরের ১ অক্টোবর সালাম মুর্শেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

২০১৮ সালের নভেম্বরে খুলনা–৪ আসনে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।